কলকাতা

সয়েল টেস্টের বালাই নেই, দমকলের অনুমতিতেও গলদ! তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তে পুলিশের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইতিমধ্যেই হাওড়ার শিবপুরে কালীচরণের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি মোবাইল এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেজিস্টার উদ্ধার করেছে পুলিশ, পাশাপাশি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Truth of Bengal: তারাতলা বিপর্যয় কাণ্ডের তদন্তে নেমে লালবাজারের গোয়েন্দারা এক চাঞ্চল্যকর দালাল চক্রের হদিশ পেয়েছেন। জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণের জন্য পুরসভার অনুমোদন পাইয়ে দিতে বর্গফুট প্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত রেট নির্ধারণ করত দালালেরা। এই ‘অভিশপ্ত’ গুদামটির নকশা অনুমোদন করানোর অভিযোগে ইতিমধ্যেই আবদুল হামিদ নামের এক দালালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, যে মালিকপক্ষের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়েছিল বলে অভিযোগ।

গোডাউন প্ল্যান অনুমোদনের জন্য পুরসভা ও দমকলের যৌথ কমিটির ছাড়পত্র আবশ্যিক হলেও, এক্ষেত্রে আদৌ দমকলের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে লালবাজারের সিট (SIT)। গোয়েন্দাদের দাবি, এই কমিটির বৈঠক বিশেষ হতো না এবং প্রাক্তন মেয়রের আপ্ত সহায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় দালালদের মাধ্যমে আসা ফাইল ও পুরো প্রক্রিয়াটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। ইতিমধ্যেই হাওড়ার শিবপুরে কালীচরণের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি মোবাইল এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেজিস্টার উদ্ধার করেছে পুলিশ, পাশাপাশি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনায় কালীচরণ এবং ধৃত ঠিকাদার সংস্থা ‘আয়ান ট্রেডার্স’-এর ম্যানেজার গুলজারের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় তদন্তকারীরা তাঁদের আরও জেরা করছেন। তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবন ধসে ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এ যাবৎ ৬ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি পুরসভার দুজন ‘এলবিএস’ (Licensed Building Surveyor)-সহ আরও পাঁচজনকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ঘটনার গভীরে যেতে লালবাজারের পক্ষ থেকে কলকাতা পুরসভাকে চিঠি দিয়ে বিল্ডিং প্ল্যানের নথি চাওয়া হয়েছে, এবং মাটি পরীক্ষা (Soil Test) হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। সোমবার গোডাউনের মালিক সংস্থা ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করেছে সিট। তদন্তে জানা গিয়েছে, নির্মাণকাজে যুক্ত কর্মীদের কোনও তালিকা বা রেজিস্টার রাখা হতো না; তবে আহতদের বয়ান অনুযায়ী দুর্ঘটনার সময় ভেতরে প্রায় ৩০ জন কর্মী ছিলেন এবং সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৩ জনের হদিশ পেয়েছে পুলিশ।

Related Articles