ইসকনের সমস্ত পদ থেকে অপসারিত! কোন কাজের ‘শাস্তি’ পেলেন রাধারমণ দাস?
রাতারাতি পদ হারিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন ইসকন কর্তা রাধারমণ দাস
Truth of Bengal: কলকাতার অন্যতম পরিচিত মুখ তথা ইসকনের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করা রাধারমণ দাসের এই আকস্মিক অপসারণে রীতিমতো হতবাক ভক্ত সমাজ। কেন তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হল, তা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু হতেই নিজেই মুখ খোলেন রাধারমণবাবু। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের দীর্ঘ পোস্টে তিনি ৬টি সম্ভাব্য কারণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা ইসকন কর্তৃপক্ষের ‘অস্বস্তি’ বাড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ‘ইসকন বিরোধী আচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
প্রথম ও প্রধান কারণটি হল বিজেপির প্রবীণ সাংসদ মানেকা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর সংঘাত। ২০২৩ সালে মানেকা গান্ধী ইসকনের গোরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ‘দেশের সবচেয়ে বড় প্রতারক’ বলে তোপ দেগেছিলেন। বিশ্বব্যাপী ভক্তদের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ইসকন কর্তৃপক্ষের তরফে মানেকা গান্ধীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মেগা মানহানির নোটিস পাঠিয়েছিলেন এই রাধারমণ দাস। দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর লাগাতার অত্যাচার ও নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কলকাতার রাজপথে নেমে বারবার গর্জে উঠেছিলেন তিনি, যা সংগঠনের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানে চাপ তৈরি করছিল।
ট্রাম্পের রথযাত্রা থিওরি এবং সুরলিন কৌর বিতর্ক!
রাধারমণ দাসের পোস্ট অনুযায়ী, তাঁর তৃতীয় ‘ভুল’ ছিল ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হওয়া প্রাণঘাতী হামলা নিয়ে এক অদ্ভুত দাবি করা। তিনি দাবি করেছিলেন, ১৯৭৬ সালে নিউ ইয়র্কে জগন্নাথ দেবের প্রথম রথযাত্রার আয়োজনে বিশেষ আইনি অনুমতি দিয়ে সাহায্য করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর সেই পুণ্যেই জগন্নাথ স্বয়ং ট্রাম্পের প্রাণ রক্ষা করেছেন! তাঁর এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দেয়। এছাড়া কৌতুকশিল্পী সুরলিন কৌরের ইসকন বিরোধী বিতর্কিত মিমের বিরুদ্ধে সরব হওয়া এবং কট্টরপন্থী সনাতনীদের নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলাও ভালোভাবে নেয়নি মায়াপুর ও কলকাতার শীর্ষ নেতৃত্ব।
“কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই”, সংবাদমাধ্যম থেকে সন্ন্যাস রাধারমণের
সর্বশেষ কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, গত ২৯ মে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তাঁর এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারকে ইসকন বিরোধী প্রচার হিসেবে দেখা হয়েছে।
তবে পদ হারিয়েও সংগঠনের প্রতি কোনও ক্ষোভ উগরে দেননি রাধারমণ দাস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমি কর্তৃপক্ষের এই কঠোর সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে নিচ্ছি এবং সম্মান জানাই।” এর সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, পদাধিকার না থাকায় আজ থেকে তিনি আর সংবাদমাধ্যমে ইসকনের প্রতিনিধি বা মুখপাত্র হিসেবে কোনও অফিসিয়াল বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেবেন না। পদ খোয়ালেও ইসকনের আগামী দিনের সার্বিক উন্নতি ও সাফল্য কামনা করেছেন শ্রীকৃষ্ণ ভাবনায় মগ্ন এই প্রাক্তন ইসকন কর্তা।





