দেশ

জুলাইয়ের শুরুতেই ক্যাবিনেটে রদবদল, মোদির মন্ত্রিসভায় রাঘব-লিয়েন্ডার-কাকলিরা! ৭-৮ নয়া মুখের এন্ট্রি?

বাদ পড়ছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান-হরদীপ পুরী? ২০২৯-এর লক্ষ্যে একাধিক হেভিওয়েটের ওপর ঝুলছে ছাঁটাইয়ের খাঁড়া!

Truth of Bengal: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর তৃতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্ণ করতেই দিল্লির সাউথ ব্লকে শুরু হয়ে গিয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তৎপরতা। বিজেপির অতীতের ট্র্যাক রেকর্ড বলছে, মোদি সরকারের দুই বছর কাটলেই মন্ত্রিসভায় বড়সড় ওলটপালট করা হয়। তাছাড়া, নীতীন নবীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর পাঁচ মাস কেটে গেলেও এখনও তাঁর নতুন কেন্দ্রীয় টিম গঠন করা হয়নি। দলীয় সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এবার মন্ত্রিসভার রদবদল এবং বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল, দুটোই হবে একে অপরের সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে। অর্থাৎ, দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কিছু চেনা মুখকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে সংগঠনের দায়িত্বে আনা হবে, আবার সংগঠনে থাকা কিছু ক্ষুরধার নেতাকে দেওয়া হবে মন্ত্রিত্বের ব্যাটন।

রাঘব চাড্ডার পুরস্কার, ডানা ছাঁটা হচ্ছে নিট-বিতর্কে জর্জরিত ধর্মেন্দ্র প্রধানের!

এই সম্ভাব্য রদবদলে সবচেয়ে বড় চমক হতে চলেছে রাঘব চাড্ডার অন্তর্ভুক্তি। আম আদমি পার্টিতে সাম্প্রতিক মেগা ভাঙনের মূল কারিগর রাঘবকে পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের দিকে নজর রেখে মোদি ক্যাবিনেটে বড় পদ দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, ‘এপস্টিন ফাইল’ কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী তাঁর কুরসি হারাতে পারেন। একই সাথে, দেশজুড়ে নিট (NEET) ও নানাবিধ সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির জেরে চরম অস্বস্তিতে থাকা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রিত্ব থাকবে কিনা, তা নিয়েও তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও ওড়িশার এই হেভিওয়েট সাংসদ আরএসএস (RSS)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।

রামায়ণের ‘রাম’ থেকে লিয়েন্ডার পেজ ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার

উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে পর্দার জনপ্রিয় ‘রাম’ তথা মেরঠের সাংসদ অরুণ গোভিলকে মোদি তাঁর ক্যাবিনেটে নিয়ে আসতে পারেন। এর পাশাপাশি বাংলা থেকে রাজ্যসভার শূন্য আসনে জিতিয়ে এনে লিয়েন্ডার পেজকে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বা অন্য কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। জর্জ কুরিয়েনের ইস্তফার পর মন্ত্রিসভায় খ্রিষ্টান বা মুসলিম মুখ না থাকায়, লিয়েন্ডারকে এনে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সমাজকেও একটা বড় বার্তা দিতে চায় বিজেপি।

সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছে পশ্চিমবঙ্গের জন্য। তৃণমূল শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে সদ্য দিল্লিতে প্রভাব বাড়ানো বারাসতের সাংসদ ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদার মোদি মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন। তাঁর সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের আরও দুই বিক্ষুব্ধ সাংসদ এবং শিবসেনার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক হেভিওয়েট নেতার নামও ঘুরছে সম্ভাব্য তালিকায়। বিজেপি সূত্র বলছে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই বয়স, আঞ্চলিক সমীকরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে মোদির এই নতুন টিম।

Related Articles