রাজ্যের খবর

রাজ্য বাজেটে উত্তরবঙ্গের চায়ের জন্য মেগা প্যাকেজ! ‘টি-ট্যুরিজম’ ও আধুনিকীকরণে বড় চমক সরকারের

দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গের চা শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদন কমে যাওয়া, বন্ধ বাগান, শ্রমিক সমস্যা এবং বাজারে নকল দার্জিলিং চায়ের দাপটে চাপে ছিল

Truth of Bengal: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই উত্তরবঙ্গের চা শিল্পকে ঘিরে নতুন আশার আলো। দার্জিলিংয়ের জিআই তকমা যুক্ত চা উৎপাদক থেকে শুরু করে তরাই-ডুয়ার্সের ছোট চা চাষি—সব মহলেই এখন চর্চা রাজ্য বাজেটে ঘোষিত বিশেষ প্যাকেজ, আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা এবং ‘টি-ট্যুরিজম’ নীতিতে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তন নিয়ে। চা বণিকসভাগুলির মতে, দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গের চা শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদন কমে যাওয়া, বন্ধ বাগান, শ্রমিক সমস্যা এবং বাজারে নকল দার্জিলিং চায়ের দাপটে চাপে ছিল। এই পরিস্থিতিতে বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ক্লাস্টার পুনরুজ্জীবন এবং শিলিগুড়িতে ‘কমন টি প্রসেসিং সেন্টার’ তৈরির প্রস্তাব শিল্পকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

WB: Closure of 13 Tea Estates in the Hills and Dooars Region Troubles Tea  Workers Ahead of Durga Puja | NewsClick

আবহাওয়ার পরিবর্তনের ধাক্কায় দার্জিলিংয়ের চা উৎপাদন বড়সড়ভাবে কমেছে। আগে যেখানে উৎপাদন ছিল প্রায় ১২ মিলিয়ন কেজি, ২০২৪ সাল থেকে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ মিলিয়ন কেজিতে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং লোকসান বাড়ায় দার্জিলিংয়ের একাধিক চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে ‘টি-ট্যুরিজম’-এর দিকে ঝুঁকেছে। এর মধ্যেই জিআই তকমা যুক্ত দার্জিলিং চায়ের বাজারে আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছিল নেপালের নিম্নমানের চা। অভিযোগ, নেপাল থেকে আসা চা অনেক সময় ‘দার্জিলিং চা’ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দার্জিলিং চায়ের ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল বলে দাবি চা শিল্প মহলের। সম্প্রতি চা পর্ষদ সীমান্ত পেরিয়ে আসা নেপালের চায়ের গুণগত মান যাচাইয়ে কড়াকড়ি শুরু করায় স্বস্তি পেয়েছেন দার্জিলিংয়ের চা বাগান মালিকরা।

Two Leaves and the Birds: Notes from Tea Gardens of the Dooars

এই আবহেই রাজ্য বাজেটে দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার পুনরুজ্জীবন কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিলিগুড়িতে ‘কমন টি প্রসেসিং সেন্টার’ স্থাপনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও বলা হয়েছে। চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহলের মতে, এই কেন্দ্র তৈরি হলে ছোট চা চাষিরাও উন্নত প্রক্রিয়াকরণের সুবিধা পাবেন। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী রাজ্য বাজেটের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বন্ধ চা বাগান চালু করা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩১৪ কোটি টাকার রূপরেখা সহ ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা’ চালুর প্রস্তাব ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর ফলে একদিকে চায়ের উৎপাদন বাড়তে পারে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।

Nagrakata - Dooars Trip

চা বণিকসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তরাই, ডুয়ার্স ও দার্জিলিং পাহাড় মিলিয়ে প্রায় ৪০টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে। দার্জিলিংয়ের ৮৭টি চা বাগানের অধিকাংশেই জৈব পদ্ধতিতে চা উৎপাদন হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেখানে ১৩টি চা বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে, একই সঙ্গে বেড়েছে বেকারত্বের চাপ।

Related Articles