একই পরিবারের ৩ ভাইয়ের মৃত্যু! তারাতলার ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর বেরোল শিরচাঁদের দেহ
মুখ চেনার উপায় ছিল না, পকেটের মোবাইলই চিনিয়ে দিল নিথর দেহ! তারাতলা ট্র্যাজেডিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৭
Truth of Bengal: কলকাতার তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে চা গুদাম ধসে পড়ার ঘটনায় যত সময় যাচ্ছে, লাশের সংখ্যা ততই বাড়ছে। এবার দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হল বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা তথা নিখোঁজ শ্রমিক শিরচাঁদ কুমারের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। গত বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে যখন ৫ তলা বহুতলটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল, তখন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। সেনা ও এনডিআরএফ (NDRF)-এর একটানা ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর অবশেষে ধ্বংসস্তূপের একেবারে নিচ থেকে টেনে বের করা হলো শিরচাঁদকে। এই নিয়ে তারাতলা মহাবিপর্যয়ে সরকারিভাবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭।
এই ঘটনার সবথেকে বড় করুণ দিক হল, পেটের তাগিদে দিনমজুরের কাজ করতে একসঙ্গে কলকাতা এসেছিলেন মুঙ্গেরের একই পরিবারের ৬ জন সদস্য। আর সেই পরিবারের ৩ জন আপন ভাই আজ এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন। বুধবার দুর্ঘটনার দিনই ঘটনাস্থলে নিরেট কংক্রিটের নিচে পিষে মৃত্যু হয়েছিল প্রথম ভাই ঘি কুমারের। এরপর বুধবার গভীর রাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কোনওমতে নিজের বুদ্ধিতে ফোন করে উদ্ধার হয়েছিলেন দ্বিতীয় ভাই মন্নু কুমার। কিন্তু এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁরও। বাকি তিন ভাই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায়, একমাত্র শিরচাঁদের খোঁজে দিন গুনছিল পরিবার। কিন্তু শুক্রবার শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
চেহারা দেখে চেনার পরিস্থিতি ছিল না, পকেটের মোবাইল দেখে মিলল পরিচয়!
পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গিয়েছে, টন টন ওজনের কংক্রিটের ছাদ ও লোহার বিম সরাসরি শিরচাঁদের শরীরের ওপর এসে পড়ায় তাঁর দেহটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল। চেহারা দেখে তাঁকে চেনার কোনও পরিস্থিতিই ছিল না। অবশেষে উদ্ধারের পর তাঁর প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি বের করা হয়। সেই মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ডটি পরীক্ষা করেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই নিথর দেহটিই আসলে নিখোঁজ শিরচাঁদ কুমারের।
শ্মশানের নীরবতা মুঙ্গেরে, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৩ জন
আলিপুর মর্গে ময়নাতদন্তের পর তিন ভাই, ঘি কুমার, মন্নু কুমার এবং শিরচাঁদ কুমারের মৃতদেহ একসঙ্গে বিহারের মুঙ্গেরের গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে তিন ভাইয়ের মৃতদেহর গাড়ি গ্রামে ঢুকলে কী পরিস্থিতি হবে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন প্রতিবেশীরা। এদিকে, এই অভিশপ্ত গোডাউন ধসে আহত কুমার পরিবারের বাকি ৩ জন সদস্য এখনও কলকাতার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। কাটমানি আর বেআইনি প্রোমোটিংয়ের বলি হওয়া এই হতভাগ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এখন উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের ফাঁসির দাবি তুলছেন সাধারণ মানুষ।






