“লাইভ তো সবাই দেখেছে, ভয়েস স্যাম্পল দিয়ে কী হবে?” সিআইডি তলব নিয়ে অভিষেককে তোপ দিলীপের
তাঁর দাবি, শুধু ‘ডিজে’ মন্তব্য নয়, “তোদের কোন বাপ রক্ষা করবে” ধরনের মন্তব্যও আপত্তিকর
Truth of Bengal: তৃণমূলের প্রতীক সংকট থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিজে’ মন্তব্য, বিজিবিএস দুর্নীতি, সব্যসাচী দত্ত ঘনিষ্ঠ নেত্রীর সোনা-কাণ্ড—একাধিক ইস্যুতে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, তৃণমূলের ভাঙন এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, দলের নাম ও প্রতীক নিয়েই নতুন করে ভাবতে হবে কালীঘাট শিবিরকে। কালীঘাট তৃণমূলের প্রতীক সংকট নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, এখন ঘাস আর জোড়াফুল আলাদা হয়ে গিয়েছে। এরপর আরও একবার ভাগ হলে জোড়াফুলও আলাদা হয়ে একটি একটি ফুলে পরিণত হবে। তাঁর পরামর্শ, তৃণমূল নাম বাদ দিয়ে অন্য নাম ভাবা উচিত। এমনকি কংগ্রেসের লোগো ব্যবহারের কথাও কটাক্ষের সুরে বলেন তিনি। দিলীপের মন্তব্য, কংগ্রেস থেকে যারা বেরিয়ে আসে, তাদের অনেককেই কোনও না কোনও সময়ে ফের কংগ্রেসে ফিরতে হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিজে’ মন্তব্যে ৩০ জুন সিআইডি তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করবে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, সেই মন্তব্য সবাই চোখের সামনে লাইভ দেখেছেন। তাই ভয়েস স্যাম্পল মিলিয়ে কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, শুধু ‘ডিজে’ মন্তব্য নয়, “তোদের কোন বাপ রক্ষা করবে” ধরনের মন্তব্যও আপত্তিকর। ডায়মন্ড হারবারের মানুষের সঙ্গে যে ধরনের ব্যবহার করা হয়েছে, তার ফলেই ফলতায় তৃণমূলের জামানত জব্দ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই ধরনের মানুষকে রাজনীতি ও সমাজ থেকে দূরে রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন দিলীপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের তৃণমূলে গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, ১৫ বছর পর হঠাৎ এই কথা মনে হল কেন? কতটা দাম চাই? তাঁর দাবি, তাঁরা আদৌ সেই গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
View this post on Instagram
মিড ডে মিলে ডিম বাদ যাওয়ার অভিযোগ নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ। তিনি বলেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকার নেয়। হাসপাতালে খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদি এ ধরনের কোনও সমস্যা সামনে আসে, সরকার তা দেখবে। হরিণঘাটা মিড ডে মিলের জন্য সাড়ে ৩ টাকায় ডিম সরবরাহ করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজন হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তৃণমূলের আড়াই লক্ষ কোটি টাকার হিসাব না দেওয়ার অভিযোগেও সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন ফিকিকে কত কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা ঘুরে আগের সরকারের কাছেই ফিরে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দিলীপের প্রশ্ন, তাহলে সেই টাকার হিসাব দেবে কে? তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সই থাকায় একটি বিষয় ধরা পড়েছে। কিন্তু এরকম আরও কত টাকার হিসাব নেই, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন নিয়েও সরব হন দিলীপ। তাঁর দাবি, বিজিবিএস নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার। কারা টাকা পেয়েছে, কত বিনিয়োগ হয়েছে, তা রাজ্যবাসীর জানা উচিত। তিনি বলেন, প্রতি বছর একই লোকেরা সম্মেলনে এসে মৌ স্বাক্ষর করতেন, কিন্তু বাস্তবে কোনও বিনিয়োগ হত না। তাহলে এই সম্মেলনের নামে এত টাকা খরচ হল কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সব্যসাচী দত্ত ঘনিষ্ঠ নেত্রীর খোঁজ না পাওয়া নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসে ‘বান্ধবী কালচার’ খুব বেশি ছিল। আরও এক ‘অপা’ বেরিয়ে এল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন তৃণমূল নেতারা বলুন কে কত চুরি করেছেন। সব মিলিয়ে দুর্নীতি ও দলীয় ভাঙন—দুই ইস্যুতেই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ।






