কলকাতা

স্কুলশিক্ষায় বড় রোডম্যাপ, মিড ডে মিল থেকে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন—বাজেটে একগুচ্ছ ঘোষণা

পিছিয়ে পড়া জেলার শিক্ষার পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন

Truth of Bengal: নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার উন্নয়নেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সোমবার শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন দেখা গেল। বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্কুল শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, ছাত্রীদের সুবিধা, আদিবাসী শিক্ষা এবং পিছিয়ে পড়া জেলার শিক্ষার পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। বাজেটে সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম মিড ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধি। এতদিন পড়ুয়া পিছু মিড ডে মিলের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় সাড়ে ৬ টাকা। এবার তা বাড়িয়ে ১০ টাকা করার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়ারা আরও পুষ্টিকর ও উন্নত মানের খাবার পাবে। শুধু পড়ুয়াদের খাবারের বরাদ্দই নয়, মিড ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত রাঁধুনিদের পারিশ্রমিকও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন তাঁরা মাসে ১০০০ টাকা পেতেন। এবার তাঁদের মাসিক পারিশ্রমিক আরও ১০০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। রাঁধুনিদের পরিশ্রমের যথাযথ মর্যাদা দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে বাজেটে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিতে শিক্ষা পরিকাঠামো বাড়াতেও বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, বর্ধমান, মালদহ এবং ঝাড়গ্রামে মোট ৬টি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় তৈরি করা হবে। এর ফলে জেলার পড়ুয়াদের উন্নত মানের স্কুলশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আদিবাসী শিক্ষার উন্নয়নের জন্যও বাজেটে বিশেষ ঘোষণা রয়েছে। ঝাড়গ্রামে আদিবাসীদের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে মোট ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দফায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। মহিলাদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। কাঁথি, কালিয়াচক এবং ফলতায় মহিলাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হবে বলে বাজেটে জানানো হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন জেলার ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্কুলছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি স্কুলে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানোর ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে কিশোরী ছাত্রীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে শিক্ষা মহল। এর পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী অবিবাহিত ছাত্রীদের জন্যও বাজেটে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়া হবে। এর ফলে উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক বাধা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের জন্য নতুন করে চালু হবে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে এই স্কলারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles