বন্ধ হচ্ছে না কোনো সামাজিক প্রকল্প! দরিদ্র ও যোগ্যদের জন্য বরাদ্দ অর্থমন্ত্রীর
রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের এই চিকিৎসার আওতাভুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এই প্রকল্পে ৩,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে নতুন সরকার।
Truth of Bengal: রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর পূর্ববর্তী সরকারের চালু করা বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া সমস্ত জল্পনা ও প্রশ্নের অবসান ঘটল। সোমবার রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগের সমস্ত সামাজিক প্রকল্পই রাজ্যে অব্যাহত থাকবে। তবে এবার প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য হবে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের হাত শক্ত করা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত সরকারের আমলে ঢালাওভাবে সবাইকে সুবিধা দেওয়া হলেও, এবার থেকে ‘ফিল্টার’ বা ছাঁকনি ব্যবহার করে কেবল যোগ্য ও দরিদ্র পরিবারগুলিকেই এই সরকারি সুবিধার আওতায় আনা হবে, যাতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা যায়।
বাজেটের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে পূর্ববর্তী জমানার অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে এখন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ করা হয়েছে। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের মহিলারা বর্তমানে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে অনুদান পাচ্ছেন এবং এই খাতে চলতি অর্থবর্ষে রেকর্ড ৩৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একইভাবে, আগের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের পরিবর্তে এবার কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের এই চিকিৎসার আওতাভুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এই প্রকল্পে ৩,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে নতুন সরকার।
এছাড়াও বয়স্ক ও বিধবা ভাতার মতো প্রচলিত অন্যান্য সামাজিক সুবিধাগুলি কেবল চালুই রাখা হচ্ছে না, বরং উপভোক্তাদের সুবিধার্থে ভাতার পরিমাণ আরও ৫০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের মহিলাদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুগম করতে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা দেওয়ার একটি বড় ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই বিশেষ বাস পরিষেবার জন্য বাজেটে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, রাজ্যের দরিদ্র শ্রেণির উন্নয়নে একঝাঁক নতুন সামাজিক প্রকল্পও চালু করেছে বর্তমান সরকার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— নতুন অবিবাহিত ছাত্রীদের জন্য এককালীন ৫০,০০০ টাকা এবং অন্তঃসত্ত্বা বা গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টি ও চিকিৎসার জন্য ২১,০০০ টাকা দেওয়ার মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্প। অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, অন্যান্য সমস্ত সামাজিক প্রকল্প বহাল থাকলেও তার মূল লক্ষ্য হবে সমাজের অন্ত্যজ ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, যাতে কোনো প্রকৃত অভাবী মানুষ সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হন।






