টেলিগ্রাম নিষিদ্ধে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বহাল, সংস্থার আর্জি খারিজ দিল্লি হাই কোর্টে
শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়, টেলিগ্রাম বর্তমানে ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’-এ পরিণত হয়েছে।

Truth of Bengal: নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতে টেলিগ্রামের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বহাল রাখল দিল্লি হাই কোর্ট। বিচারপতি তেজস কারিয়া শুক্রবার টেলিগ্রামের দায়ের করা আবেদন খারিজ করে জানান, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয়, যুক্তিসংগত এবং সর্বনিম্ন কড়া ব্যবস্থা।
শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়, টেলিগ্রাম বর্তমানে ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’-এ পরিণত হয়েছে। অপরাধীরা এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ডার্ক ওয়েবের লিঙ্ক ছড়াচ্ছে, পাশাপাশি চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, জঙ্গি সংগঠনের প্রচার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বেআইনি কার্যকলাপও চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, টেলিগ্রামের গোপনীয়তাভিত্তিক কাঠামোর কারণে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা ও দোষীদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছে।
নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর মূল পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই প্রেক্ষিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সুপারিশে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (মেইটিওয়াই) ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের অ্যাক্সেস সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ৩০ জুন পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মে আগে পোস্ট করা বার্তা সম্পাদনার সুবিধাও বন্ধ রাখতে বলা হয়।
টেলিগ্রামের দাবি ছিল, অন্য সামাজিক মাধ্যমগুলিকে সচল রেখে শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করা ইউআরএল পাঠানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এছাড়া নিট-সংক্রান্ত বেআইনি কনটেন্টের ৯০০-রও বেশি লিঙ্ক সরানো হয়েছে এবং এআই, মেশিন লার্নিং ও মানব পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মভঙ্গকারী কনটেন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য প্রশ্নফাঁস রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরমণিও কেন্দ্রের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, টেলিগ্রামের প্রযুক্তিগত কাঠামো এমন যে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।
সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত জানায়, সরকারের পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। ফলে টেলিগ্রামের আবেদন খারিজ করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।



