বিশ্বজুড়ে শিশু জন্মহার কমার পেছনে আসল ‘ভিলেন’ আপনার হাতের স্মার্টফোন!
বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন দেশে জন্মহার কমার পেছনে স্মার্টফোনের অত্যাধিক ব্যবহারকেই কালপ্রিট হিসাবে দেখা হয়েছে
Truth of Bengal: গোটা বিশ্বে বিভিন্ন দেশেই কমছে শিশু জন্মর হার। জাপান, আমেরিকার মতো বিভিন্ন উন্নত দেশে দেখা যাচ্ছে, উদ্বেগজনক মাত্রায় কমছে শিশুর জন্ম নেওয়ার হার। অনেক দেশে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে। এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় জন্মহার কমার পেছনে মুদ্রাস্ফীতি, কাজের চাপ, আর্থিক সমস্যা এবং পরিবর্তিত জীবনযাপনকেই জন্মহার কমার প্রধান কারণ হিসাবে ধরা হত। কিন্তু আমেরিকায় হওয়া সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ উল্টো তথ্য। বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন দেশে জন্মহার কমার পেছনে স্মার্টফোনের অত্যাধিক ব্যবহারকেই কালপ্রিট হিসাবে দেখা হয়েছে।
গবেষকরা বোঝার চেষ্টা করছেন, স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়াও জন্মহার হ্রাসের ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা রাখছে কি না।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দেশে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার নীচে জন্মহার নেমে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চিন, ইউরোপ এবং আমেরিকার মতো উন্নত দেশে এই সমস্যা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু এখন লাতিন আমেরিকা, পশ্চিম এশিয়া এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকি, ব্রাজিল, ভারতেও কমছে শিশু জন্মর হার। আমেরিকায় ২০০৭ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত শিশু জন্ম হার কমেছে ২২%। গবেষকদের মতে, ২০০৮ সালে আমেরিকা তথা গোটা বিশ্বে আর্থিক মন্দা বা রিসেশন দেখা দেয়। কোটি কোটি মানুষ তীব্র আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়ে। কিন্তু পরে যখন আর্থিক অবস্থা কিছুটা ভালো হয় তখনো কিন্তু জন্ম হার বাড়েনি। আমেরিকার ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকনমিক রিসার্চের গবেষকরা জন্মহার কমার কারণ নিয়ে গবেষণা করা শুরু করেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০-১৫ বছরে বিভিন্ন দেশে আকস্মিক জন্মহার কমার পেছনে অর্থনৈতিক সমস্যাই একমাত্র কারণ নয়। গবেষকদের মতে, স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনযাপনের ধরন বদলে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে মানুষ এখন আগের চেয়ে কম মেলামেশা করছে। ভালোবাসা বা বন্ধুত্বর সম্পর্ক তৈরি করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। যৌনজীবনে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একাকীত্ব বাড়ছে। পৃথক একটি গবেষণায় 4জি ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক চালুর পর আমেরিকা ও ব্রিটেনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, যেসব এলাকায় দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট আগে পৌঁছেছিল, সেখানে জন্মহার আরও দ্রুত কমে গেছে। কারণ, স্মার্টফোনের দৌলতে তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে বেশি সময় কাটাচ্ছে। সামনাসামনি নিজেদের মধ্যে কম সময় কাটাচ্ছে। মানুষ প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের নিখুঁত জীবন দেখছে, যা সম্পর্ক নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বদলে দিচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক এড়িয়ে চলছেন। প্রচুর মানুষ বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে।


