মমতার দেওয়া বিয়ের উপহার ফেরত দিতে কালীঘাটে কাকলি-পুত্র! ফিরিয়ে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা
এদিকে কাকলির এই আকস্মিক শিবির বদল ও দল বিরোধী অবস্থানের নেপথ্যে থাকা আসল কারণ নিয়ে নাম না করে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের প্রবীণ সাংসদ তথা নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহু ঐতিহাসিক লড়াইয়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলেন কাকলি। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দু’পক্ষের এই সুদীর্ঘ সম্পর্কে ক্রমশ ফাটল ধরতে শুরু করে এবং দূরত্ব বাড়তে থাকে। প্রথম দিকে এই দূরত্ব নিয়ে রাজভবন কিংবা ঘাসফুল শিবির— কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও ক্ষোভের আবহ পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে আসে। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নিজের নাম লিখিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবার।
এদিকে কাকলির এই আকস্মিক শিবির বদল ও দল বিরোধী অবস্থানের নেপথ্যে থাকা আসল কারণ নিয়ে নাম না করে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগের সুরে বলেছিলেন যে, দলের এক শীর্ষস্থানীয় সাংসদ ব্যক্তিগত স্বার্থে আজ দল ভাঙার খেলায় মেতেছেন। ওই সাংসদ আসলে নিজের ছেলের জন্য বিধানসভা নির্বাচনে একটি টিকিট চেয়েছিলেন; কিন্তু দল তা দিতে রাজি না হওয়াতেই তিনি রাগের বশে সরাসরি বিজেপির (BJP) সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এর পুরস্কার বা ‘উপহার’ স্বরূপ তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা (Central Security) পেয়ে গিয়েছেন। পরবর্তীতে তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতার মুখেও একই সুর শোনা যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের এই চরম আক্রমণের জেরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন কাকলির পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের পরিবার।
এই রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝেই দিন কয়েক আগে কাকলিপুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফেসবুকে তিনি লেখেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার বিয়েতে আমার স্ত্রীকে একটি মূল্যবান সোনার হার উপহার দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে উৎসব ও পুজোয় আমাকে বেশ কিছু কুর্তা-পায়জামা দিয়েছিলেন। আমরা সপরিবারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওঁর দেওয়া সমস্ত উপহার আমরা ওকেই ফেরত দিয়ে দেব। ওঁর অতীত সৌজন্যের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ হলেও, বর্তমানের কিছু ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই উপহারগুলি ফিরিয়ে দেওয়াই সমীচীন বলে মনে করছি।” ক্ষোভ উগড়ে বৈদ্যনাথ আরও যোগ করেন, “সোনার হারটি বিগত ২ বছর আমাদের কাছে ছিল। তার জন্য যদি আমাদের সুদ বা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টারেস্টও দিতে হয়, আমি তা দিতেও রাজি। কিন্তু ওঁর মতো মানসিকতার মানুষের কাছ থেকে কোনো স্মৃতি বা উপহার আমার পরিবার আর রাখতে চায় না।”
নিজের সেই সামাজিক মাধ্যমের ঘোষণা মতোই গত বুধবার সন্ধ্যায় সমস্ত উপহার সামগ্রী এবং একটি বিশেষ চিঠি নিয়ে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হাজির হন কাকলিপুত্র বৈদ্যনাথ। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি চরম প্রত্যাখানের মুখোমুখি হন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করলেও রাজভবন সংলগ্ন বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কোনো কর্মী সেই প্যাকেট গ্রহণ করেননি। এই প্রসঙ্গে পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষুব্ধ বৈদ্যনাথ জানান, “বিগত কয়েক দিনের যাবতীয় ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তির চূড়ান্ত অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে উপহার সহ নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী এবং ভেতরের অফিসের কর্মচারীরা সেই উপহারের প্যাকেট এবং চিঠি— কোনো কিছুই গ্রহণ করতে পরিষ্কার অস্বীকার করেন।” উপহার ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে কালীঘাটের দোরগোড়ায় ঘটে যাওয়া এই বেনজির ঘটনাকে ঘিরে বর্তমানে উত্তর চব্বিশ পরগনা ও কলকাতার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।


