রাজ্যের খবর

বিজেপির বিপুল জনসমর্থনের পরেই পাহাড়ে শুভেন্দু! কালিম্পং থেকে উত্তরবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা

তিনি বলেন, “পাহাড়ের উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

Truth of Bengal: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কালিম্পং সফরে গিয়ে পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে বড় বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাম্প্রতিক নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির বিপুল জনসমর্থনের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সফর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কালিম্পংয়ের জনকল্যাণ শিবির থেকে তিনি স্পষ্ট জানালেন, পাহাড়ের উন্নয়নে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার কালিম্পংয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য রোডম্যাপ তৈরি। ধীরে ধীরে সব হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে এই কাজ করবে। আপনারা নিশ্চিত থাকুন।” তাঁর কথায়, তিনি পাহাড়ে ঘুরতে আসেননি, কাজ করতে এসেছেন। উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান—এই তিন ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, কালিম্পংয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করা হবে। পাহাড়ের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ বলে জানান তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘খেলো ইন্ডিয়া, জড়ো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে খেলাধুলার অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। শুধু স্বাস্থ্য বা ক্রীড়া নয়, কর্মসংস্থান নিয়েও বড় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেই নিয়োগে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পাহাড়ের যুবক-যুবতীদের জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এর পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই থেকে পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে ১২৫ দিনের কাজ শুরু হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকারি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে ধাপে ধাপে কাজ করবে সরকার।

তৃণমূল আমলে পাহাড় বঞ্চিত হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ তুলে এসেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই ক্ষোভের প্রতিফলনই ভোটে গেরুয়া শিবিরের পক্ষে জনসমর্থন হিসেবে দেখা গিয়েছে। সেই সমর্থনের কথা মাথায় রেখেই এবার পাহাড়ের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দুর বক্তব্যেও সেই বার্তাই স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রীর কালিম্পং সফর ঘিরে তাই পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। ঘোষণাগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, মেডিক্যাল কলেজ, পুলিশ নিয়োগ ও ১২৫ দিনের কাজ কতটা সময়ের মধ্যে শুরু হয়, এখন সেদিকেই নজর পাহাড়ের মানুষের।

Related Articles