৬ মাসের মধ্যে কলকাতায় পুরভোট! কেএমসিতে প্রশাসক নিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন, কারণ স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী
ছ’মাসের মধ্যেই পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট করলেন তিনি
Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন যেমন প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই ভেঙে গিয়েছে কলকাতা পুরসভার বোর্ডও। বর্তমানে পুরসভার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রশাসক। এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীর বড় প্রশ্ন, কবে হবে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন? সোমবার কলকাতা পুরসভার এক অনুষ্ঠান থেকে সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানালেন, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতায় নতুন পুরবোর্ড গঠিত হবে। অর্থাৎ ছ’মাসের মধ্যেই পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট করলেন তিনি। এদিন প্রশাসক বসানো নিয়েও ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা পুরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিষেবা সংস্থা এক মুহূর্তের জন্যও অচল রাখা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই প্রশাসক নিয়োগ করতে হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “ওরা সবাই মেয়র হতে চায়! নাগরিক পরিষেবা এক মিনিটের জন্যও বন্ধ রাখা যায় না। তাই বাধ্য হয়েছি প্রশাসক বসাতে।”
রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের সংগঠনে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রথমে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী বিধায়কদের বিদ্রোহে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরে। এর মধ্যেই কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। এরপর পুরবোর্ড ভাঙা নিয়ে নবান্নের তরফে নোটিস পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, নতুন মেয়র বাছাই করতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কাউন্সিলরদের সই সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ কাউন্সিলর তাতে রাজি হননি। ১৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে বড় অংশের অনীহায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সেই আবহেই নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে কাউন্সিলরদের ক্ষমতাও লুপ্ত করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “আমি আগের বোর্ডকে বলেছিলাম, ওরা ধরে রাখতে পারেনি। কলকাতা পুরসভা তো বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। নাগরিক পরিষেবা তো দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েছি প্রশাসক বসাতে।” তৃণমূলের অন্দরের মেয়র-পদ ঘিরে টানাপোড়েনকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা যদি সবাই মেয়র হতে চান, তাতে তো আমার কিছু করার নেই।” কলকাতা পুরসভার ঐতিহ্যের কথাও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কলকাতা পুরসভার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই পুরসভার অধীনে বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। এখনও শহরের অনেক জায়গায় সকালে পাইপ দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও একসময় এই পুরসভার মেয়র ছিলেন। তাই এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না বলেই স্পষ্ট করেন তিনি।
পুরভোট প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, “আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করা দরকার। পাশাপাশি যেখানে প্রশাসক রয়েছে, সব জায়গাতেই দ্রুত ভোট হোক—আমরা সেটাই চাইছি।” এদিন কলকাতা পুরসভার উন্নয়নের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সম্ভাবনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে একইসঙ্গে পূর্বতন পুরবোর্ডের কাজকর্ম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের বোর্ড নাগরিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কাজ করেনি। বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার বার্তাও দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো তিনিও সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। এদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তাঁদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “রাজনীতি শুধু ভোটের সময়। বাকি সময়ে কাজটাই প্রধান।”






