উন্নয়নেরস্বার্থে উধাও দলীয় ভেদাভেদ! শুভেন্দুর ডাকে সাড়া দিয়ে পুরসভায় হাজির তৃণমূল কাউন্সিলররা
কাজের স্বার্থে দলীয় ভেদাভেদ ভুলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে এবং সামনের সারিতে দেখা গেল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা জাভেদ খান, দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ তথা কাউন্সিলর মালা রায় এবং ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীতে থাকা কাউন্সিলর সন্দীপন সাহাকে।
Truth of Bengal: আসন্ন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে তিলোত্তমা কলকাতাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে তুলতে ‘স্বচ্ছতাকে স্বাগত’ শীর্ষক এক মেগা সাফাই অভিযানের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত হতে চলেছে যোগ দিবসের মূল কর্মসূচি, যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উপস্থিত থেকে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরের আগেই গোটা শহরজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে সোমবার কলকাতা পুরসভায় এক প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে সব থেকে বড় চমক ছিল রাজনৈতিক সৌজন্যের এক নজিরবিহীন মেলবন্ধন। কাজের স্বার্থে দলীয় ভেদাভেদ ভুলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে এবং সামনের সারিতে দেখা গেল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা জাভেদ খান, দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ তথা কাউন্সিলর মালা রায় এবং ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীতে থাকা কাউন্সিলর সন্দীপন সাহাকে।
কলকাতা পুরসভার অডিটোরিয়ামে বক্তব্য রাখার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অতীত স্মরণ করে বলেন, “কলকাতা পুরসভায় শেষবার ২০১৭ সালে এসেছিলাম, তখন এসেছিলাম মন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু আজ এখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আসতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।” এই মেগা প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে শুধু তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাই নন, হাজির ছিলেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরও। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা তাঁর ‘ঘরের লোক’ হিসেবে পরিচিত কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এদিনের অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। বিরোধী শিবিরের কাউন্সিলরদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এই সরকারি কর্মসূচিতে এক অন্য মাত্রা যোগ করে।
তৃণমূল কাউন্সিলরদের এই উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক সৌজন্যকে দু’হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে একতার বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “এই পক্ষ কিংবা ওই পক্ষ নয়, আমাদের এখন একটাই পক্ষ—তা হলো উন্নয়নের পক্ষ।” তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজ্যের মানুষের স্বার্থে বা নাগরিক পরিষেবার কাজে তাঁদের সঙ্গে কারও কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনে বাংলার সমস্ত উন্নয়নের কাজ করা হবে। তবে একই সঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শহরের স্বার্থে যারা এই কর্মযজ্ঞে এগিয়ে আসবেন, তাঁরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করবেন; কিন্তু যারা রাজনৈতিক অহংকারের কারণে আসবেন না, তাঁরা মূল স্রোত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। সব মিলিয়ে, মোদির সফরের আগে এই সাফাই অভিযানকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভা এক রাজনীতি-মুক্ত প্রগতিশীল সমন্বয়ের সাক্ষী থাকল।






