‘অভিভাবকহীন’ কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বদল! আজই দায়িত্ব নিচ্ছেন স্মিতা পাণ্ডে
তৃণমূলের পতনে ‘অভিভাবকহীন’ তিলোত্তমা! বর্ষার আগেই কলকাতা পুরসভায় জরুরি ভিত্তিতে জারি নয়া শাসন
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে আদি তৃণমূল কংগ্রেসের চেনা দুর্গগুলি। বিধানসভা ও লোকসভার সংসদীয় দল হাতছাড়া হওয়ার পর এবার কলকাতার পুর-প্রশাসনেও লেগেছে তার বড় ধাক্কা। গত কয়েকদিন ধরে চলা প্রবল রাজনৈতিক জল্পনা সত্যি করে অবশেষে কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। আর তাঁর এই নাটকীয় পদত্যাগের পরেই কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ হয়ে পড়েছিল কলকাতা পুরসভা (KMC), যার জেরে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে নবান্ন সূত্রের খবর, সেই জটিলতা কাটাতে আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করতে নারাজ নতুন সরকার। পুরসভার কাজকর্ম সচল রাখতে আজ, সোমবারই কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক (Administrator) পদে বসানো হচ্ছে দক্ষ আইএএস তথা বর্তমান পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey)।
বর্ষার মুখে জল যন্ত্রণা এড়াতে বড় সিদ্ধান্ত, বহাল থাকছেন কাউন্সিলররা
কলকাতা পুরসভার পরিধি অত্যন্ত বিশাল। সামনেই বর্ষা চলে আসায় তিলোত্তমার জল নিকাশি ব্যবস্থা এবং প্রতিদিনের জঞ্জাল সাফাইয়ের মতো অতি প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদল হলেও, সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। কলকাতা পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের আধার কার্ডের লিঙ্ক, বাসস্থান কিংবা আয়ের শংসাপত্র (Income/Residential Certificate) এবং স্কুল-কলেজে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি কাগজপত্রে সই বা সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষমতা আপাতত সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলরদের হাতেই রেখে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে সার্টিফিকেটের জন্য পুরসভার সদর দফতরে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না।
“পরিষেবা সামাল দেওয়ার নেটওয়ার্ক নেই”, তোপ বিদায়ী মেয়রের
এই নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। এ প্রসঙ্গে বিজেপির এক কাউন্সিলর জানান, “কলকাতা পুরসভার বিস্তার অনেক বড়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নানাধরনের সংশাপত্রের জন্য এখানে আসেন। তাই মানুষের সুবিধার্থেই কাউন্সিলরদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, তীব্র কটাক্ষ শানিয়ে বিদায়ী বোর্ডের এক প্রভাবশালী মেয়র পারিষদ দাবি করেছেন, “কয়েকদিন পরেই কলকাতায় বর্ষা নামবে। জল জমা থেকে শুরু করে জঞ্জাল সাফাইয়ের মতো জটিল নাগরিক পরিষেবা সামাল দিতে যে ধরণের পরিকাঠামো ও অভিজ্ঞ নেটওয়ার্ক দরকার, তা এই মুহূর্তে বিজেপির নেই। আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই তারা কাউন্সিলরদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার সাহস দেখায়নি।” তবে ছাব্বিশের এই ডামাডোলের বাজারে স্মিতা পাণ্ডের হাত ধরে কলকাতা পুরসভা তার চেনা ছন্দে ফিরতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।






