কলকাতা

মেসি-কাণ্ডে রক্ষাকবচ পেলেন না অরূপ, “নিয়ম মেনেই শুনানি”, বলল হাই কোর্ট

তাঁর সেই আবেদনে মান্যতা দিল না উচ্চ আদালত

Truth of Bengal: মেসি কাণ্ডে নাম জড়ানো রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের আইনি জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে এবং মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই আবেদনে মান্যতা দিল না উচ্চ আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মামলার শুনানি হবে নিয়ম মেনেই। এই ধরনের মামলাকে আলাদা করে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব নয় বলেই পর্যবেক্ষণ বিচারপতির। এর পাশাপাশি গ্রেপ্তারির আশঙ্কা থাকলে প্রাক্তন মন্ত্রীকে আগাম জামিনের আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে আদালত। এই ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ মে, যখন মেসির গোট টুরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেন। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহতির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে টিকিটে কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, মেসির ইভেন্টের নিরাপত্তায় গাফিলতি এবং প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগ। এই এফআইআরের ভিত্তিতেই গত ৪ জুন অরূপ বিশ্বাসকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তার আগেই তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এর মাঝে মেসি কাণ্ডে বারাসত আদালতেও আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই খারিজ হয়ে গিয়েছে। এরপর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও সেখানেও বড় ধাক্কা খেলেন তিনি।

প্রথমবার যখন পুলিশ তাঁকে তলব করে, তখন অরূপ বিশ্বাস শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, অসুস্থতার কারণে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে তাঁর পক্ষে থানায় হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে পুলিশ তাঁকে এই অতিরিক্ত সময় দিতে নারাজ। গত রবিবার প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে দুটি নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে আসে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। সেই নোটিসে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রাক্তন মন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতার যে অজুহাত দিচ্ছেন, তার সপক্ষে কোনও উপযুক্ত প্রমাণ বা মেডিক্যাল রিপোর্ট তিনি জমা দিতে পারেননি। ফলে সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে সশরীরে থানায় হাজিরা দিতেই হবে।

পুলিশের এই কড়া নির্দেশের পরও অবশ্য সোমবার নির্ধারিত সময়ে অরূপ বিশ্বাস বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হননি। এমনকি নিজের আইনজীবী মারফতও থানার আধিকারিকদের কোনও বার্তা পাঠাননি তিনি। আদালতের দরজায় ধাক্কা খাওয়ার পর এবং পুলিশের জোড়া নোটিস এড়ানোর জেরে প্রাক্তন মন্ত্রীর চারপাশের আইনি চাপ এখন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পুলিশ এবার কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় কি না, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

Related Articles