বাংলায় চালু হচ্ছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’, চুক্তি সই করতে দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
সোমবারই কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ সংহতির মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করতে চলেছে মোদি সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য যোজনা।
Truth of Bengal: তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের জল্পনায় এই মুহূর্তে সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এই টানটান উত্তেজনার আবহেই সোমবার দিল্লি সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেশের রাজধানীতে তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো, সোমবারই কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ সংহতির মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করতে চলেছে মোদি সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য যোজনা। রাজ্যের প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লি সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল জল্পনা।
রাজনৈতিক মহলে খবর, তৃণমূলের একদল সাংসদ দল থেকে আলাদা হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই দেশের রাজধানীতে জড়ো হয়েছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁরা লাগাতার যোগাযোগ রাখছেন বলেও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। দিল্লির এই রাজনৈতিক আবহে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও ওই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিজেপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বস্তুত, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ফাটল চওড়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল পরিষদীয় দল ভেঙে ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘নতুন তৃণমূল’। বিধানসভায় এখন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বাধীন এই বিধায়করা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নমুখী কর্মযজ্ঞের শরিক হতে চান।
এদিকে, অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগদানের ক্ষেত্রে কোনওরকম বাছবিচার বা কড়া নিয়মের পক্ষপাতী নন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। এই বিষয়ে নিজের স্পষ্ট যুক্তি দিয়ে তিনি জানান, “আমাদের কাছে সব ধরনের মানুষই আসবেন। কেউ কেউ হয়তো নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে আসতে চান। কিন্তু, একে দলে নেওয়া উচিত আর ওকে নেওয়া উচিত নয়—এমন কোনও বার্তা দেওয়া এই মুহূর্তে ঠিক নয়। দলে আসা নতুন নেতৃত্বকে যোগ্য কার্যকর্তা হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বিজেপির। আমাদের সংগঠনকে এতটাই মজবুত হতে হবে যাতে অন্য দল থেকে যিনিই আমাদের পরিবারে আসবেন, তিনি আমাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের মতোই কাজ করবেন।” ফলে সব মিলিয়ে, আজ দিল্লির দরবারে বাংলার রাজনীতির সলতে কোন দিকে পাক খায়, সেদিকেই গভীর নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।






