‘লক্ষ্মী ছেলে’র খোঁজে সিট-গঠনের নির্দেশ, দুর্নীতির শিকড় উপরাতে কড়া শুভেন্দু
একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী
Truth of Bengal: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা জালিয়াতি করে ঢুকছিল একাধিক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে! নতুন বিজেপি সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করার জন্য তথ্য যাচাই করতে গিয়ে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন দুর্নীতির হদিস পেলেন নবান্নের আধিকারিকেরা। এই জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করতে এবং রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমন ‘পুরুষ লক্ষ্মীদের’ খুঁজে বের করতে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি বেশ কিছু ভুয়ো অ্যাকাউন্টের নাম ও তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন: “এখনও পর্যন্ত তদন্তে নেমে মোট ২২টি সম্পূর্ণ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাঠানো হচ্ছিল। এর মধ্যে ১টি অ্যাকাউন্ট রাকিবুলের, আরও ১৫টি অ্যাকাউন্ট মুস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী তুহিনার নামে রয়েছে। বাকি ৬টি অ্যাকাউন্ট তারিকুল রহমানের।”
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, “অনুপ্রবেশকারী থেকে শুরু করে হাজার হাজার তৃণমূল নেতা— যারা আদতে মহিলা নন— তাঁরা এভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সরকারি টাকা লুট করছেন। আমরা এই জালিয়াতির শেষ দেখে ছাড়ব। সে কারণেই সিট গঠন করতে বলেছি। তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিটা ব্লকে খতিয়ে দেখা হবে এই লুট। লুটেরাদের পার্টি কীভাবে সরকারি কোষাগার লুট করেছে, এটা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।” রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের ১২ পাতার দীর্ঘ আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধেও এদিন চাঁছাছোলা ভাষায় তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “যারা ১২ পাতা, ১৬ পাতা বা ১৮ পাতা নিয়ে রাজনীতি করছেন, সেই জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত নেতা ও তাঁদের দলকে বলব— ফর্মের সংখ্যা বা পাতা কত বড় হবে তা আমরা জানি। সাধারণ মানুষ কিন্তু সমস্ত বিভ্রান্তি উড়িয়ে ফর্ম পূরণ করতে এগিয়ে এসেছেন এবং আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।”
প্রশাসনিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সরকারিভাবে চালু হয়ে গিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী বুধবারের মধ্যে আরও বিপুল সংখ্যক মহিলার ফর্ম ফিলআপের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। আগামী বুধবারই রাজ্যের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক (Cabinet Meeting) ডাকা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে এই তদন্তের অগ্রগতি এবং অন্নপূর্ণা যোজনা রূপায়ণের বিষয়ে আরও কিছু বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।





