কলকাতা

“আঙুল তুলে হাসপাতালের সিইও-কে শাসানি মমতার!” অভিষেককে ভর্তি করার চাপ দিতেই প্রকাশ্যে বিস্ফোরক ভিডিও

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজিরবিহীন ধমক ও হুমকির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাত্মক ভাইরাল হয়েছে

Truth of Bengal: শনিবার সোনারপুরে আক্রান্ত হওয়ার পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার কোনও হাসপাতালেই ভর্তি করানো যায়নি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার এক নামী বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরেই তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। অভিষেককে ভর্তি না নেওয়ার কারণে খোদ হাসপাতালের সিইও (CEO)-কে আঙুল উঁচিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজিরবিহীন ধমক ও হুমকির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাত্মক ভাইরাল হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শরীরে কোনও গুরুতর আঘাত না মেলায় প্রাথমিক চিকিৎসার পরই ছেড়ে দেওয়া হয় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে। যদিও এই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মূল সংবাদমাধ্যম। শনিবার বিকেলে সোনারপুরে হামলার মুখে পড়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রথমে ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেখানে যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না— এই অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ মমতারা অভিষেককে নিয়ে দ্রুত মিন্টো পার্কের কাছে অন্য একটি প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে চিকিৎসকেরা দীর্ঘক্ষণ তাঁর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করার মতো কোনও পরিস্থিতি বা গুরুতর চোট নেই বলে জানিয়ে দেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে মোট ৫৭ মিনিট সেখানে ছিলেন মমতারা। অভিষেককে ভর্তি না করার সিদ্ধান্ত আসতেই জরুরি বিভাগের ভেতরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলনেত্রী। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের সিইও মিস্টার ট্যান্ডনের দিকে তর্জনী উঁচিয়ে তীব্র চিৎকার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্ট্রেচারে করে অভিষেককে নিয়ে যাওয়ার সময় সিইও-কে লক্ষ্য করে মমতা বলেন, “সরি মিস্টার ট্যান্ডন। আপনি ভুল করেছেন। মনে রাখবেন, আমরা আপনার জন্য কী কী করেছি, কী সাহায্য করেছি। ভগবান আপনাকে ক্ষমা করবে না।” সেখানেই ক্ষান্ত না হয়ে প্রশাসনের চাপে হাসপাতাল পিছু হটেছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “পুলিশ-প্রশাসনের কাছে মাথা নত করে আপনি একটা রোগীর চিকিৎসা করলেন না! লজ্জা হওয়া উচিত। ছি! এই অহংকার সকলে মনে রাখবে।” সিইও তাঁর পিছন পিছন এগোতে গেলে ফের ধমক দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আসবেন না আমাদের সঙ্গে। আপনি হাসপাতাল চালাচ্ছেন? ডাক্তারদের ভয় দেখাচ্ছেন! কারণ এখন বিজেপি ক্ষমতায় আছে!” এর পরই চরম হুঁশিয়ারির সুরে মমতাকে বলতে শোনা যায়, “কাল যখন কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে না, আমরা ব্যাপারটা দেখে নেব।” ঠিক কী ঘটেছিল সেই ৫৭ মিনিটে? হাসপাতালের অন্দরের খবর হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, শনিবার রাতে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর একটি বিশেষ ভিআইপি সুইটে (Suite) অভিষেককে ভর্তি করাতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই মুহূর্তে ওই সুইটটি ফাঁকা ছিল না। ফলত চিকিৎসকেরা অভিষেককে সরাসরি জরুরি বিভাগে (Emergency Ward) নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানান, বাহ্যিকভাবে শরীরে কোনও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে পরিবারের জেদ ও অনুরোধে পরবর্তীতে সিটি স্ক্যান-সহ একাধিক অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু সমস্ত রিপোর্টের ফলাফলই স্বাভাবিক আসে। চিকিৎসকেরা যখন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে রোগীকে ভর্তি রাখার কোনও মেডিক্যাল কারণ নেই, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সিইও ও চিকিৎসকদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।মমতা হাসপাতালে হম্বিতম্বি এবং শাসানিতেও যখন চিকিৎসকেরা অনড় থাকেন, তখন ঠিক ৫৭ মিনিটের মাথায় অভিষেককে নিয়ে হাসপাতাল চত্বর ছাড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই চিকিৎসকদের ওপর বর্তমান বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হাসপাতালে যখন সঠিক বিচার মিলল না, তখন অভিষেককে তাঁরা বাড়িতেই নিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁদের পারিবারিক চিকিৎসককে দিয়েই তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা করানো হবে। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর কলকাতার বুকে একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘রূঢ় রূপ’ ও হুমকির ভিডিও রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।

Related Articles