বিএসএফের হাতে ১৪২ একর জমি, সীমান্তে কাঁটাতারের কড়াকড়ি! শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ শাহ
শুভেন্দুর সীমান্ত ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ সিলমোহর অমিত শাহের! বিএসএফকে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর, অনুপ্রবেশ রুখতে নজিরবিহীন প্রশংসা
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ দমনে অভাবনীয় গতি এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তর করা হবে। মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সেই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্যের বাইরে পাঠানোর কড়া নীতি নিয়ে দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। আর এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই যুগান্তকারী কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
গান্ধীনগরের সভা থেকে মমতার জমানাকে আক্রমণ শাহের
বৃহস্পতিবার নিজের সংসদীয় কেন্দ্র গুজরাতের গান্ধীনগরে একটি হাইপ্রোফাইল জনসভা থেকে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় বাংলার সীমান্তে প্রতিদিন অবাধে অনুপ্রবেশ চলত, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি ছিল। কিন্তু বাংলায় আমাদের সরকার আসতেই চেনা ছবিটা বদলে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েই শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ রুখতে অত্যন্ত কড়া ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিএসএফ-এর জমি হস্তান্তরের কাজ তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শুরু করে দিয়েছেন।”
স্বেচ্ছায় ফিরলে ছাড়, নয়তো কড়া অ্যাকশন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সভা থেকে আরও একটি বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, যে সমস্ত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী কোনও রকম অশান্তি না করে স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চান, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও রকম আইনি হেনস্থা বা কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না।
প্রসঙ্গগত, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রায় একই রকম নীতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছিলেন, যাঁরা সিএএ (CAA)-এর আওতায় পড়বেন না বা ভারতের বৈধ নাগরিক নন, তাঁদের চিহ্নিত করে সরাসরি গ্রেফতারের পর বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
১৪২ একর জমি পেল বিএসএফ, শীর্ষে মুর্শিদাবাদ
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করতে রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত মোট ১৪২.৭৯ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়েছেন যে, জমি হস্তান্তরের নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা।
অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিগত কয়েক বছরে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাসের (Demography) চরিত্রে কী ধরনের বদল এসেছে, তা খতিয়ে দেখতে গত মঙ্গলবারই একটি উচ্চস্তরীয় কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছেন অমিত শাহ। এই কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আগামী মাসে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে সশরীরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যা ছাব্বিশের বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






