আমজনতার স্বার্থে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের পথে নয়া রাজ্য সরকার
প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে এবং সরকারি পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের পথে হাঁটছে নতুন সরকার
জয় চক্রবর্তী: রাজ্যে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পালা পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭৭ সালে এসেছিল বামেরা। সেই বামেদের হটিয়ে ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নীল-সাদা সরকার এবং তাদেরকে সরিয়ে মানুষের বিপুল ভোটে এবার বিজেপি সরকার। নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু বদল আনতে চাইছে নতুন সরকার। সেইমত প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে এবং সরকারি পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের পথে হাঁটছে নতুন সরকার বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।
সম্প্রতি মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘদিনের জটিলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাধা কাটাতে একগুচ্ছ সংস্কারের প্রস্তাব উঠে আসে। সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন কমিশনের মূল লক্ষ্য হবে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি রোধ, কর্মীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন ও নজরদারির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াই করতে এসে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এক সংকল্প পত্র মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। বেশ কিছু বিষয়ের সঙ্গে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এই সংকল্প পত্রের অন্যতম বিষয় ছিল। যা বাস্তবে রূপায়িত করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কাজের ধরন ও কার্যকারিতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করবে এই কমিশন। সরকারি কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও বদল আনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম এত বড় মাপের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, আমলাতান্ত্রিক জট কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে গতি আনা।
এদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, প্রশাসনিক সংস্কারের নামে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। “এই উদ্যোগ সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। রাজনীতি তার জায়গায় থাকবে কিন্তু প্রশাসন মানুষের জন্য কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। আর তাকে স্বচ্ছ করতে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ” আরো খবর কে জানিয়েছেন নবান্নের এক উচ্চপর্যায়ের আধিকারিক।






