কলকাতা

‘দিল্লির কোন বাবা বাঁচাবে’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বিচারপতি, শর্তসাপেক্ষে অভিষেককে রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট

অভিষেকের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে কোন কড়া শর্ত দিলেন বিচারপতি?

Truth of Bengal: গত ২৭ এপ্রিল আরামবাগে ভোটপ্রচারে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম না করে তীব্র অহংকার প্রকাশ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। আমি উদার নই। এবার বিষয়টা আমি দেখে নেব। ৪ মে ১২ টার পর দেখব দিল্লির কোন বাবা বাঁচায়।” শুধু তাই নয়, ফলতায় গিয়েও বৈদ্যুতিন চুল্লি ও ডিজে মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিলেন তিনি। রাজ্যে সরকার বদলাতেই এই বেলাগাম মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম শাখায় এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। সেই মামলাতেই গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, একজন তিনবারের সাংসদ তথা উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে এমন উস্কানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন? এর জবাবে অভিষেকের আইনজীবী তথা বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, “অমিত শাহও তো অনেক কিছু বলেন।” কল্যাণের এই জবাবে ক্ষুব্ধ বিচারপতি সাফ জানান, “৪ মে যদি ভোটের ফলাফল অন্যরকম হত, তবে আপনার মক্কেলের এই মন্তব্যের জেরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারত।”

বিদেশে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ, সশরীরে হাজিরার নির্দেশ

আদালতে সওয়াল-জবাব চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মানুষ ভালোর কথা ভেবেই ২০২৬ সালেও পরিবর্তন এনেছে। এর জবাবে বিচারপতি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “সেটা সময় বলবে।”

আদালত চূড়ান্ত বিরক্তি প্রকাশ করলেও শেষমেশ আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত অভিষেককে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিয়েছে। তবে তার জন্য একাধিক কঠিন শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে:

  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত কোনও অবস্থাতেই দেশের বাইরে বা বিদেশে যেতে পারবেন না।

  • তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ডাকলে ভিডিও কনফারেন্স বা ভার্চুয়ালি নয়, সশরীরে থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে।

  • তবে আদালত পুলিশকেও নির্দেশ দিয়েছে, অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে হলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে লিখিত নোটিস পাঠাতে হবে। ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর হাইকোর্টের এই চাবুক অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles