অফবিট

মনসামঙ্গল কাব্যে উল্লেখ রয়েছে কলকাতার প্রাচীন এই রাজপথের, এই পথ পেরিয়ে কলকাতা দখল সিরাজ উদ-দৌলহর

কলকাতার চেয়েও প্রাচীন এই রাজপথ। এখন যার পোশাকি নাম রবীন্দ্র সরণি।

Truth of Bengal: ইতিহাস পরতে পরতে কথা বলে কল্লোলিনী তিলোত্তমার। কলকাতার প্রাচীন রাজপথের কথা বললে প্রথমেই মনে আসে চিৎপুর রোডের কথা। এক সময় এই রাজপথের নাম ছিল পিলগ্রিম পাথ। কেন না এই পথ পেরিয়ে পবিত্র কালীক্ষেত্র কালীঘাটে পৌঁছতেন পুণ্যার্থীরা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ম্যাপে হালিশহর থেকে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধীনে চৌরঙ্গীর জঙ্গল পেরিয়ে যে রাস্তা কালীঘাট মন্দির পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তাই হল চিৎপুর রোড।
এই পথ পেরিয়ে ১৭৫৬ সালে কলকাতা দখল করেন নবাব সিরাজ উদ-দৌলহ।

কলকাতার চেয়েও প্রাচীন এই রাজপথ। এখন যার পোশাকি নাম রবীন্দ্র সরণি। ৪০০ বছর পুরনো চিৎপুর রোড, ২টি ভাগ, আপার চিৎপুর রোড ও লোয়ার চিৎপুর রোড নামে বিভক্ত। বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট ও বেনটিঙ্ক স্ট্রিটের ক্রসিংয়ে থাকা মার্সেন্টাইল বিল্ডিং থেকে মহাত্মা গান্ধী রোড পর্যন্ত বিস্তৃত লোয়ার চিৎপুর রোড। কলকাতার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় চিৎপুর রোডের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই রাস্তার পাশেই এক ভবনে ১৮২৮ সালে ব্রাহ্ম সমাজ তৈরি করেন রাজা রামমোহন রায়। এই রাস্তার পাশে ইতিহাসের জীবন্ত দলিল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লক হাউজে একের পর এক নাটক প্রদর্শিত হত। এখানেই প্রথম বার নীল দর্পণ নাটক মঞ্চস্থ করে ক্যালকাটা ন্যাশনাল থিয়েট্রিকাল সোসাইটি। বাঙালির প্রাণের ‘ঠাকুর’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি রয়েছে চিৎপুর রোডের পাশে। আবার এখানেই রয়েছে নাখোদা মসজিদ। ১৯২৬ সালে শিলান্যাস হয় মসজিদের। কচ্ছ উপকূলের মেমন জামাত গোষ্ঠী এই মসজিদ তৈরি করে। তখনকার দিনে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

চিৎপুর রোডের পশ্চিম দিকে রয়েছে চিত্তেশ্বরী দুর্গা মন্দির। অনেকে মনে করেন, ১৬১০ সালে নির্মিত চিত্তেশ্বরী দুর্গা মন্দিরের নামেই চিৎপুর এলাকার নাম হয়। আবার অনেকের মতে, চিত্রকরদের থেকে এই জায়গার নামকরণ করা হয়েছে। কালীঘাটের অনেক পটুয়া, চিত্রকর এখানে বসবাস করতে শুরু করেন। তাঁদের থেকে জায়গার নাম হয় চিৎপুর। মনসামঙ্গল কাব্যে উল্লেখ রয়েছে চিৎপুরের। এই চিৎপুর রোডের পাশে রয়েছে শিয়া মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান ১৮৫২ সালে নির্মিত গোলকুঠি ইমামবারা।

Related Articles