কলকাতা

অফিস টাইমে মেট্রোয় চরম বিপর্যয়! টালিগঞ্জ থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত বন্ধ পরিষেবা

স্টেশনে এক যাত্রী লাইনে ঝাঁপ দেওয়ায় কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়

Truth of Bengal: কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে পর পর দু’দিন যাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় পাতালপথের নিরাপত্তা ও যাত্রী পরিষেবা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। সোমবারের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যস্ত সময়ে মাস্টারদা সূর্য সেন (বাঁশদ্রোণী) স্টেশনে এক যাত্রী লাইনে ঝাঁপ দেওয়ায় কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

মেট্রোরেল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট নাগাদ মাস্টারদা সূর্য সেন স্টেশনে এক ব্যক্তি আচমকাই ডাউন লাইনে দক্ষিণেশ্বরগামী একটি ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি চালকের নজরে আসতেই তিনি দ্রুত তৎপরতার সঙ্গে আপৎকালীন ব্রেক কষে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এরপরই ওই যাত্রীকে উদ্ধারের জন্য লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জরুরি ভিত্তিতে ‘পাওয়ার ব্লক’ নেওয়া হয়। মেট্রো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই ঘটনার জেরে কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী গোটা রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল থমকে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেট্রো রেলের পক্ষ থেকে আংশিক রুটে ট্রেন চালানো শুরু হয়। সাময়িকভাবে টালিগঞ্জ থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হলেও, টালিগঞ্জ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হয়েছিল। ঠিক অফিস ছুটির ব্যস্ত সময়ে ডাউন লাইনে এই বিঘ্ন ঘটায় চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী। পাতালপথে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন বন্ধ থাকায় অগত্যা বিকল্প হিসেবে বহু অফিসফেরত যাত্রী স্টেশন থেকে বেরিয়ে সড়কপথে বাসে-অটোয় চেপে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করেন, যার ফলে বাইরের রাস্তাতেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ে।

উল্লেখ্য, ঠিক আগের দিন অর্থাৎ সোমবার বিকেলেও রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে এক যাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টার কারণে ব্লু লাইনে পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেবার প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। পর পর দু’দিন পাতালপথে এই ধরনের ঘটনায় মেট্রোর প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কেন এখনও সব স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর বসানো সম্ভব হলো না, তা নিয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নিত্যযাত্রীরা।

Related Articles