শিক্ষায় বদলের হাওয়া! বৈঠক সেরে বড় বার্তা দিলেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ
সোমবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ-সহ পদ্ম শিবিরের ১৭ জন নির্বাচিত বিধায়ক।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের শিক্ষা দফতর এখনও নিজের দায়িত্বেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে নবান্ন ও রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছে যে, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্বপন দাশগুপ্ত অথবা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের মধ্যে কাউকে আগামী দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে রাজ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং সামনেই শুরু হতে চলেছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। এই আবহে এ রাজ্যের স্কুলগুলিতে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ (NEP 2020) পুরোদমে কার্যকর করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ঠিক কোন পথে এগোবে এবং কীভাবে গোটা পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানো হবে— তা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো সল্টলেকের বিকাশ ভবনে।
সোমবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ-সহ পদ্ম শিবিরের ১৭ জন নির্বাচিত বিধায়ক। মূলত শিক্ষা দফতরের কাজের গতি বাড়াতে এবং আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতেই দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এই দীর্ঘ বৈঠক সারেন তাঁরা। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, এদিন স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতরের একাধিক অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়েছে। রাজ্যে খুব শীঘ্রই পিএমশ্রী (PM-SHRI) স্কুল প্রকল্পের সূচনা করার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষানীতি রূপায়ণের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামহলের মতে, এই পদক্ষেপগুলির ফলে রাজ্যের ধুঁকতে থাকা শিক্ষাব্যবস্থায় এক আমূল ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে চলেছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “গত কয়েক বছরে এ রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে যে ধরণের নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে সুন্দর আগামীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রত্যেকের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নিয়েই আগামী দিনের নতুন শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতে চাই।” এরপরই বিগত তৃণমূল জমানায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পাঠ্যক্রমে আনা বিতর্কিত রদবদল নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে পাঠ্যবই থেকে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো কালজয়ী সাহিত্যিকদের রচনা বাদ দিয়ে সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মতো সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
পাঠ্যক্রমের এই রাজনৈতিকীকরণ নিয়ে নতুন সরকার কোনো বদল আনবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে শঙ্কর ঘোষ অত্যন্ত কৌশলী জবাব দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “শিক্ষা দফতর বর্তমানে সরাসরি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর এক্তিয়ারে রয়েছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনই আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে এটুকু নিশ্চিত করতে পারি যে, আগামী দিনে শিক্ষা ক্ষেত্রে যা কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণ সর্বসম্মতিক্রমে এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই করা হবে।” বিকাশ ভবনের এই মেগা বৈঠকের পর মনে করা হচ্ছে, স্কুল স্তরের সিলেবাসে বড়সড় রদবদল এবং জাতীয় শিক্ষানীতির দ্রুত বাস্তবায়নই এখন শুভেন্দু সরকারের মূল লক্ষ্য।



