কলকাতারাজ্যের খবর

বাংলায় আবহাওয়ার বড় ভোলবদল! একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর জোড়া সতর্কতা

অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে প্রাক-বর্ষার আবহাওয়া, যার জেরে চলতি সপ্তাহজুড়েই রাজ্যজুড়ে আবহাওয়ার এক বড়সড় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ধেয়ে আসতে পারে তীব্র বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। অন্যদিকে, গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর গরমের পর দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে চৈত্র-বৈশাখী দাবদাহের পর এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া রাজ্যবাসীর জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির, অন্যদিকে তেমনই ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে বাড়তি সতর্কতারও বার্তা দিচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে আগামী ২০ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি চলবে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের বিশেষ সতর্কতা অনুযায়ী, ২১ মে থেকে ২৩ মে-র মধ্যে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার পরিমাণ কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে এবং উত্তরবঙ্গের বাকি অংশে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট থাকবে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টির জেরে ধস নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা, যা ডুয়ার্স ও পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ১৭ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, হুগলি, বাঁকুড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতেও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইবে। এই আচমকা ঝড়-বৃষ্টির ফলে একদিকে যেমন খোলা জায়গায় বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকছে, তেমনই ভারী বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, এই অসময়ের ঝড়-বৃষ্টির জেরে চলতি মরশুমের ফসল ও উদ্যানপালনেও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি মহল।

এই সম্ভাব্য দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচতে এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বজ্রপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝড়ের সময় খোলা মাঠে না গিয়ে অবিলম্বে পাকা ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যটক ও চালকদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রশাসনকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঝড়-বৃষ্টির কারণে গত কয়েকদিনের হাঁসফাঁস করা গরম থেকে সাময়িক মুক্তি মিলবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

Related Articles