নানুরে বাড়ি বয়ে বিজেপি কর্মীদের ‘শান্তি ট্যাক্স’ ফেরত, অনুগামীদের কাণ্ডে কী বললেন কাজল শেখ
ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের থেকে নেওয়া লাখ লাখ টাকা বাড়ি গিয়ে ফেরত দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা
Truth of Bengal: বীরভূমের নানুর ও শান্তিনিকেতন থানা এলাকা মানেই রাজনৈতিক হিংসার চেনা বারুদ। কিন্তু ছাব্বিশের মহারণে তৃণমূলের পতন ঘটতেই এবার সেই নানুরেই দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য ছবি। একুশের ভোট কিংবা চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর যে সমস্ত বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন, তাঁদের গ্রামে ঢোকানোর জন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতারা যে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা বা ‘শান্তি ট্যাক্স’ হিসেবে আদায় করেছিলেন, তা এখন হাতজোড় করে ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে।
বাড়ি-ঘর বিক্রি করে দিতে হয়েছিল জরিমানা
বিজেপির অভিযোগ, কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত ও আশপাশের এলাকায় ২০২১ ও ২০২৪ সালের ভোটের পর বহু গেরুয়া সমর্থকের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাঁদের এলাকাছাড়া করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর গ্রামে ফিরতে গেলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মামন শেখ ও আলেফ শেখের দরবারে মোটা টাকা দিতে হত। আক্রান্ত বিজেপি কর্মী সব্যসাচী রায় জানান, “বিজেপি করার অপরাধে আমাদের মারধর করা হয়েছিল। গ্রামে ফেরার জন্য কারও থেকে ৫০ হাজার, আবার কারও থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়। অনেকে তো টাকা জোগাড় করতে নিজেদের ভিটেবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন।”
১১ জন বিজেপি কর্মীর টাকা ফেরত
সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই নানুরের সমীকরণ রাতারাতি বদলে গিয়েছে। গণপিটুনির ভয় এবং পুলিশের মেগা অ্যাকশন থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা লুকিয়ে শান্তিনিকেতন থানা এলাকার অন্তত ১১ জন বিজেপি নেতার বাড়িতে গিয়ে নগদ টাকা ফেরত দিয়ে এসেছেন। এই ঘটনা চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দায় এড়ালেন বিধায়ক কাজল শেখ
অভিযুক্ত মামন শেখ ও আলেফ শেখ দুজনেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাসনের নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তবে এই বিপুল টাকা ফেরতের কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই তড়িঘড়ি দায় ঝেড়েছেন কাজল বাবু। তিনি বলেন, “২০২১ সালের সময় ওই এলাকার ওপর আমার কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল না, আমি সামান্য কর্মী ছিলাম। কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতে কে জোর করে টাকা নিয়েছে বা ফেরত দিচ্ছে, সে বিষয়ে আমার কিচ্ছু জানা নেই।” অন্যদিকে অভিযুক্ত দুই তৃণমূল নেতা এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।






