প্রথমবার বিধানসভায় লড়াই জেলা পরিষদের সভাধিপতি থেকে প্রার্থী—নতুন ভূমিকায় কাজল শেখ
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও, বিধানসভা নির্বাচনে তিনি একেবারেই নতুন মুখ
সৌতিক চক্রবর্তী,হাসন (বীরভূম)(ছবি: ভিক্টর শেখ): আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের হাঁসন কেন্দ্র এখন রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে। তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে কাজল শেখকে, যিনি বর্তমানে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও, বিধানসভা নির্বাচনে তিনি একেবারেই নতুন মুখ—এই সমীকরণই এবার আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে অভিজ্ঞ প্রশাসক হিসেবে তাঁর কাজের রেকর্ড, অন্যদিকে প্রথমবারের প্রার্থী হিসেবে মানুষের প্রত্যাশা—দুটোর মিশেলেই তৈরি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। এর পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ও মাঠে নেমে জোর প্রচার চালাচ্ছেন। তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, কাজল শেখের দীর্ঘদিনের জনসংযোগ ও উন্নয়নের অভিজ্ঞতাই তাঁকে এগিয়ে রাখছে।
এই প্রেক্ষাপটে কাজল শেখকে করা হল একাধিক প্রশ্ন—

প্রশ্ন: আপনি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কি বিধানসভা নির্বাচনে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি?
উত্তর: অবশ্যই। প্রশাসনিক স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে মানুষের সমস্যাকে কাছ থেকে বুঝতে শিখিয়েছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে আমরা গ্রামীণ উন্নয়নের বহু কাজ করেছি—রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি আরও বড় পরিসরে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। তাই আমি মনে করি, এই অভিজ্ঞতাই আমার অন্যতম বড় শক্তি।

প্রশ্ন: প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী—নতুন মুখ হিসেবে কি বাড়তি চাপ অনুভব করছেন?
উত্তর: চাপ তো থাকেই, তবে আমি এটাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখছি। মানুষ আমার উপর ভরসা রাখছেন, দল আমাকে সুযোগ দিয়েছে—এটাই আমার কাছে বড় বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটাই আমাকে এই নতুন দায়িত্ব পালনে সাহায্য করবে।

প্রশ্ন: নতুন মুখ হওয়া সত্ত্বেও আপনি কি মনে করেন মানুষের মধ্যে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেশি?
উত্তর: আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে যুক্ত। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তাই আমি নতুন প্রার্থী হলেও মানুষের কাছে একেবারে নতুন নই। এই সম্পর্কটাই আমার আসল শক্তি।

প্রশ্ন: এলাকায় গত কয়েক বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেটাই কি আপনার প্রচারের মূল ভিত্তি?
উত্তর: একদম। উন্নয়ন চোখে দেখা যায়—রাস্তা হয়েছে, জল পৌঁছেছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষ সরাসরি পেয়েছেন। তাই আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই, মানুষ নিজেরাই জানেন কী হয়েছে।
প্রশ্ন: বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আপনি কি মনে করেন মানুষ কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেবে?
উত্তর: আজকের দিনে মানুষ খুব সচেতন। তারা শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে সিদ্ধান্ত নেয় না, কাজ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা কাজ করে দেখিয়েছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ সেই কাজের উপরই ভরসা রাখবেন।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, জেলা পরিষদের কাজের অভিজ্ঞতা আপনাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে এগিয়ে রাখছে?
উত্তর: অভিজ্ঞতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মাঠে থেকে কাজ করেছি, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছি। মানুষের সমস্যার বাস্তব সমাধান কীভাবে করতে হয়, সেটা আমি জানি। তাই এই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

প্রশ্ন: সারাবছর মানুষের পাশে থাকার রাজনীতি—এটাই কি আপনার মূল শক্তি?
উত্তর: আমি সবসময় সেটাই বিশ্বাস করি। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থাকা—এটাই আমার রাজনীতির মূল দর্শন। মানুষ সেটা দেখেছেন এবং সেই কারণেই তাদের সমর্থন পাচ্ছি।
প্রশ্ন: যুবকদের জন্য যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে, তা কি এই নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে?
উত্তর: নিশ্চয়ই। যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান, স্বনির্ভর প্রকল্প, ছোট শিল্প—এই সব ক্ষেত্রেই কাজ হয়েছে। আমরা চাই যুবকরা নিজের এলাকাতেই সুযোগ পাক এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা এগোচ্ছি।
প্রশ্ন: রাজ্যের প্রকল্পগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় কি আপনারা সফল?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রকল্প বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিশ্চিত করেছি যাতে প্রতিটি মানুষ সেই সুবিধা পান। শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবে পৌঁছে দেওয়াটাই বড় বিষয়—সেখানেই আমরা সফল।

প্রশ্ন: বিরোধীরা নানা অভিযোগ তুললেও, আপনি কি মনে করেন মানুষ বাস্তব উন্নয়নই দেখবেন?
উত্তর: অবশ্যই। অভিযোগ তো থাকবেই, কিন্তু মানুষ বাস্তবটাই দেখেন। তারা জানেন কে কাজ করছে আর কে শুধু কথা বলছে। সেই কারণেই আমি মানুষের উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখছি।
প্রশ্ন: বিজেপি প্রার্থী পরিবর্তনের কথা বলছেন। আপনি কি মনে করেন এখানে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে?
উত্তর: পরিবর্তন তখনই দরকার হয়, যখন কাজ হয় না। এখানে উন্নয়ন হয়েছে, মানুষ সেই সুবিধা পেয়েছেন। তাই আমি মনে করি মানুষ স্থায়ী উন্নয়নের ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইবেন।
প্রশ্ন: ভোটের লড়াইয়ে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন?
উত্তর: প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বীকেই আমি সম্মান করি। তবে শেষ পর্যন্ত মানুষের রায়ই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ উন্নয়ন এবং কাজের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রশ্ন: মানুষের কাছে আপনার মূল বার্তা কী?
উত্তর: আমি সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। উন্নয়নের যে ধারা শুরু হয়েছে, সেটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। মানুষের আশীর্বাদই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
হাঁসন বিধানসভায় এবার লড়াইয়ের চিত্র স্পষ্ট—একদিকে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হলেও বিধানসভায় নতুন মুখ কাজল শেখ, অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জ। তবে তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাস, কাজল শেখের দীর্ঘদিনের মাঠে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই এই লড়াইয়ে তাঁকে এগিয়ে রাখছে। উন্নয়নের ইস্যুতে ভর করে তিনি যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তা স্পষ্ট। এখন সব নজর ভোটের বাক্সে—মানুষ কি নতুন প্রতিশ্রুতির দিকে ঝুঁকবে, নাকি ইতিমধ্যেই হওয়া কাজের ধারাবাহিকতার উপরই ভরসা রাখবে, সেটাই নির্ধারণ করবে হাঁসনের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ।






