রাজ্যের খবর

বর্ধমানে বালিখাতের সিন্ডিকেট রাজ! বেআইনি টোলের প্রতিবাদ করতেই রক্তাক্ত বিজেপি কর্মী

বালি গাড়ির বেআইনি তোলাবাজি রুখতে গিয়ে ধুন্ধুমার বর্ধমানে

পিন্টু প্যাটেল, বর্ধমান: বাংলায় ক্ষমতার হাতবদল হলেও বালিখাতকে কেন্দ্র করে তোলাবাজি ও রাজনৈতিক হিংসার চেনা ছবি বদলাল না বর্ধমানে। সরকারি নিয়ম ভেঙে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বালি বোঝাই লরি থেকে দেদার বেআইনি টোল ট্যাক্স কাটার অভিযোগ উঠছিল। রবিবার তারই প্রতিবাদ করতে গিয়ে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হতে হল এক বিজেপি কর্মীকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিজেপির থানায় অভিযোগ ও কড়া বার্তা

বিজেপির ৪ নম্বর নগর মণ্ডল সভাপতির অভিযোগ, বর্তমানে আইনিভাবে সব জায়গায় টোল ট্যাক্স নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও বালি মাফিয়ারা জোর করে গাড়ি আটকে টাকা তুলছিল। বিজেপি কর্মীরা বাধা দিতেই লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। মন্ডল সভাপতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আগের সরকারের কিছু হার্মাদ এখনও রয়ে গেছে। তারা এখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে নতুন সরকারের ভেক ধরে গেরুয়া আবির মেখে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের পুরনো কর্মীদের ওপরই হামলা চালাচ্ছে। ওপর মহলের কড়া নির্দেশ আছে, ‘মারের বদলে মার’ দেওয়া যাবে না। তাই আমরা আইন নিজের হাতে না তুলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।”

এটা বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল: দেবু টুডু

অন্যদিকে, বিজেপির তোলা সমস্ত অভিযোগ সপাট নস্যাৎ করে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা দেবু টুডু পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। এটা সম্পূর্ণ বিজেপির আদি ও নব্যদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ঝামেলা। ক্ষমতা পেয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে কে কার মাথা কাটবে আর কার পা কাটবে, সেটা তাদের বিষয়। এর দায় তৃণমূলের ওপর চাপানো অর্থহীন।” তিনি জানান, তৃণমূল শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষে এবং পুলিশ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।

এই ঘটনার পর থেকে বর্ধমানের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি যে বেআইনি টোল ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, তাও খতিয়ে দেখছে। নতুন করে যাতে কোনো গোষ্ঠী সংঘর্ষ বা অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Related Articles