রাজ্যের খবর

স্কুলের সিলেবাস নিয়ে বড় ইঙ্গিত সজল ঘোষের! বাদ পড়ছে সিঙ্গুর আন্দোলন ও মোগলদের ইতিহাস?

পাশাপাশি ইতিহাসের পাঠ্যসূচি থেকে মোগল যুগের বেশ কিছু অংশ বাদ দেওয়ার পক্ষেও জোরাল সওয়াল করেছেন

Truth of Bengal: রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গঠনের পর এবার স্কুলের পাঠ্যক্রম বদল নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল জমানার অন্যতম চর্চিত অধ্যায় সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস স্কুলের পাঠ্যবই থেকে বাদ পড়তে চলেছে কি না, তা নিয়ে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছেন বরানগরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি সিঙ্গুর আন্দোলনের পাশাপাশি ইতিহাসের পাঠ্যসূচি থেকে মোগল যুগের বেশ কিছু অংশ বাদ দেওয়ার পক্ষেও জোরাল সওয়াল করেছেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, যেখানে বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত পর্যুদস্ত। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। রাজ্যে সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং বর্তমান প্রশাসনিক সমীকরণে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরটিও তাঁর নিজের হাতেই রয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই বিদায়ী সরকারের একাধিক নিয়ম ও সিদ্ধান্ত বদলে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার অংশ হিসেবে এবার স্কুলস্তরের সিলেবাসেও বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ওপর ভর করেই এ রাজ্যে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পরবর্তীতে তৃণমূল জমানায় অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে সিঙ্গুর আন্দোলনের এই ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেখানে সিঙ্গুরের জমিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বীজ ছড়ানোর ছবিও স্থান পেয়েছিল। তবে বিরোধী শিবির ও অর্থনীতিবিদদের একাংশের পক্ষ থেকে বরাবরই অভিযোগ করা হতো যে, সিঙ্গুর থেকে টাটারা কারখানা না করেই চলে যাওয়ার কারণে রাজ্যের শিল্পায়ন কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছে। এছাড়া তৃণমূল আমলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরও পাঠ্যবইয়ে তাঁর নাম থেকে যাওয়া নিয়ে ইতিপূর্বে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

রাজ্যে পালাবদলের পর এই বিতর্কিত বিষয়গুলি এবার সিলেবাস থেকে বাদ পড়তে চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে। বিধায়ক সজল ঘোষ এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট দাবি তুলেছেন যে, সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়টি পাঠ্যক্রম থেকে সরানো উচিত। এর পাশাপাশি মোগল আমলের ইতিহাসকে বিকৃত বলে দাবি করে তা-ও বইয়ের পাতা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সরকারি স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই বিজেপির শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি এবং নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তক থেকে সিঙ্গুর অধ্যায়টি দ্রুত বাদ দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। এই সিলেবাস বদলের জল্পনা প্রসঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস জানিয়েছেন, সরকার যদি ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কোনো যথাযথ ও উপযোগী সিলেবাস তৈরি করতে চায়, তবে সেই পদক্ষেপকে অবশ্যই স্বাগত জানানো হবে।

Related Articles