ডায়মন্ড হারবারে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবার ও সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে এই বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Truth of Bengal: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবারই নিজের প্রথম জেলা সফরে বেরোলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রথম সফরেই তাঁর মূল নজরে রয়েছে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই লোকসভা এলাকা থেকেই নিজের প্রশাসনিক সফর শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার ডায়মন্ড হারবারের ‘সাগরিকা’ সরকারি টুরিস্ট লজে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন তিনি। মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে হাজির ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার-সহ সমস্ত থানার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এই বৈঠকের মাঝেই এক নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন ডায়মন্ড হারবারের স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছান। তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি এবং তিনি ফিরে যান।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবার ও সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে এই বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে ছাব্বিশের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার যে সমস্ত অভিযোগ সামনে এসেছে, তা দমনে পুলিশকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, খোদ তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদারও শুক্রবার বিধানসভায় এই এলাকাগুলির হিংসা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে পুলিশ-প্রশাসনের রাশ শক্ত করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই তড়িঘড়ি সফর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ডায়মন্ড হারবারের এই প্রশাসনিক বৈঠক শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী সোজা রওনা দেবেন ফলতার উদ্দেশ্যে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সেখানে বিজেপির একটি মেগা কর্মী সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় কর্মীদের নির্বাচনী টনিক দেওয়ার পর আজ রাতেই তাঁর নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে।
চলতি বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে একটি আসন ছাড়তে হওয়ায় তিনি সম্প্রতি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। তা সত্ত্বেও নন্দীগ্রামের প্রতি নিজের টান ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষকে আমি কখনই বুঝতে দেব না যে আমি এখন আর ওদের বিধায়ক নই। নির্বাচনের সময় এই এলাকার উন্নয়নের জন্য যা যা প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম, তার প্রত্যেকটি আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করব।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পর নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।






