রাজ্যের খবর

“সংবিধান মেনেই নন্দীগ্রাম ছাড়লাম!”, শপথ নিয়ে আবেগপ্রবণ শুভেন্দু, ভবানীপুরেই শুরু নতুন ইনিংস

নন্দীগ্রাম ছাড়লেও এলাকাবাসীর জন্য কী প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন তাঁকে ছাড়তেই হতো। বুধবার বিধানসভায় শপথগ্রহণের পর সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম নয়, ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবেই শপথ নিলেন তিনি। এর ফলে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আবেগী নন্দীগ্রাম ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

এদিন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের কাছে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি বলেন, “সংবিধানের নিয়ম অনুসারে আমাকে একটি আসন ছাড়তে হত, তাই নন্দীগ্রাম ছাড়লাম। তবে নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি আমার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে কলকাতা সংলগ্ন ভবানীপুর কেন্দ্রটিকে নিজের কাছে রাখলেন তিনি।

নন্দীগ্রামবাসীর জন্য বিশেষ বার্তা

বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগামী পাঁচ বছর নন্দীগ্রামের মানুষকে কোনো অভাব বুঝতে দেব না। নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে আমার রক্তের টান। যে কোনও অনুষ্ঠানে বা প্রয়োজনে আমি সেখানে সশরীরে হাজির থাকব।” অর্থাৎ পদ ছাড়লেও সেখানকার মানুষের অভিভাবক হিসেবেই তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

ফের ভোটের বাদ্যি?

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর নন্দীগ্রাম আসনে যে উপনির্বাচন হতে চলেছে, তা এখন কার্যত নিশ্চিত। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সেখানে ফের ভোট হতে পারে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের মাটি নন্দীগ্রাম এবং কলকাতার ভবানীপুর, দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। আজ ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রশাসনিক ইনিংসের নতুন কেন্দ্র হিসেবে কলকাতাই চূড়ান্ত হল।

Related Articles