বিএলআরও অফিসে তালা, পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ! বেলডাঙায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে রণংদেহি হুমায়ুন কবীর
“৭০ লক্ষ টাকার মাটি গায়েব!”, পুলিশ ও বিএলআরও-র বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ হুমায়ুন কবীরের
কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর (BL&LRO) এবং পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোমবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এদিন সকালে অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে বেলডাঙা-২ ব্লক কার্যালয়ে পৌঁছে বিএলআরও দফতর ও পঞ্চায়েত সমিতির গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান তিনি। বিধায়কের এই আচমকা অভিযানে ব্লক চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করতে হয়।
বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের মূল অভিযোগ মূলত দুটি বিষয় ঘিরে, পাট্টা বিলিতে জালিয়াতি এবং বেআইনি মাটি খনন। তাঁর দাবি, কামনগর পঞ্চায়েত এলাকায় প্রকৃত ভূমিহীনদের পাট্টা না দিয়ে ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীদের পাট্টা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সরাসরি বিএলআরও এবং শক্তিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “শক্তিপুর এলাকা থেকে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাটি বেআইনিভাবে পাচার করা হয়েছে, যার কোনও রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি।” এই বিপুল অঙ্কের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এদিন বিক্ষোভের পর বিধায়ক বেলডাঙা-২ ব্লকের বিডিও-র কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, “এই দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। আমি ব্লক ও জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এবং নবান্নকেও লিখিতভাবে এই দুর্নীতির কথা জানাব।” অন্যদিকে, পঞ্চায়েত সমিতির ওপর এই আক্রমণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিউটি বেগমের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা আতাউর রহমান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পঞ্চায়েত সমিতিতে কোনও অনিয়ম হয়নি। হুমায়ুন কবীর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করছেন।”
প্রশাসনের তরফে বহরমপুরের মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, উত্তেজনার জেরে সাময়িকভাবে তালা লাগানো হলেও পরে তা খুলে দেওয়া হয়। বিধায়ক যেসব অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ তদন্ত শুরু করা হবে। তবে দিনের আলোয় খোদ বিধায়কের এহেন বিক্ষোভ এবং সরকারি দফতরে তালা ঝোলানোর ঘটনা জেলা রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।





