নবান্নে শুভেন্দুর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে ‘রহস্যময়’ উপস্থিতি! সিইও মনোজ আগরওয়ালকে নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা
নির্বিঘ্নে ভোট করানোর পুরস্কার পাচ্ছেন মনোজ? কমিশন-বিজেপির আঁতাঁত কি তবে সত্যি?
Truth of Bengal: সোমবার ছিল নবান্নে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম কর্মদিবস। এদিন সকাল থেকেই দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি। মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে শুরু করে জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে পর্যালোচনা, ছিল ঠাসা কর্মসূচি। কিন্তু সব ছাপিয়ে নজর কেড়েছে একটি বিশেষ উপস্থিতি। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে করা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল।
প্রোটোকল ভেঙে উপস্থিতি কেন?
নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কোনও পদাধিকারীর থাকার কথা নয়। মনোজ বর্তমানে রাজ্য সরকারের কোনও পদে নেই, তিনি সরাসরি কমিশনের অধীনে কর্মরত। এই পরিস্থিতিতে নবান্নের ১৪ তলায় শুভেন্দুর পাশে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ‘রহস্য’ দানা বেঁধেছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, মনোজকে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্য প্রশাসনের কোনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফলতার ভোট এবং পরবর্তী সমীকরণ
তবে এই নিয়োগ এখনই সম্ভব নয়। আগামী ২১ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ। অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করেছিল। ২৫ মে ফল ঘোষণার পর মনোজ সিইও-র দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারেন। নবান্ন সূত্রের খবর, ফলতা পর্ব মিটলেই মনোজকে বড় কোনও দায়িত্ব দিতে পারেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ জুলাই মনোজের কর্মজীবনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই তাঁকে রাজ্য প্রশাসনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
উপদেষ্টা সুব্রতর পথেই কি মনোজ?
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই শুভেন্দু তাঁর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছেন সুব্রত গুপ্তকে। নির্বাচনের সময় সুব্রত ছিলেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক। তাঁর কাজে সন্তুষ্ট হয়েই সরকার গড়ার পর তাঁকে নিজের পাশে টেনে নিয়েছেন শুভেন্দু। মনোজের ক্ষেত্রেও কি সেই একই ‘মডেল’ অনুসরণ করা হবে? নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ‘পুরস্কার’ হিসেবে কি তিনিও পাবেন নবান্নের কোনও শীর্ষ পদ?
নবান্ন বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে এখনও এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে শুভেন্দুর জমানায় যে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে, মনোজ অগ্রবালের উপস্থিতি তারই আগাম সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





