“মমতা সরকারকে ফেলার অন্তর্ঘাত করেছিলেন অভিষেকই!”, বিস্ফোরক সাসপেন্ডেড তৃণমূল মুখপাত্র
ব্লক সভাপতি হতে গেলেও দিতে হতো ‘দক্ষিণা’! তৃণমূলের অন্দরের ‘ফিল্টারেশন প্রসেস’ ফাঁস করলেন কোহিনুর
Truth of Bengal: গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূলের সাম্রাজ্য ধূলিসাৎ হতেই এবার দলের অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক কঙ্কাল। এবার খোদ তৃণমূল নেত্রী কোহিনুর মজুমদার সরাসরি আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, আরজি কর আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য খোদ অভিষেকই অন্তর্ঘাত বা ‘সাবোটাজ’ করেছিলেন। দল রাতারাতি কর্পোরেট হয়ে যাওয়া এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের অবজ্ঞাই এই পতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন তিনি।
অভিষেককে তুষ্ট করতে ‘তন্ত্র পুজো’ ও ‘দক্ষিণা’
এদিন কোহিনুর মজুমদার অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোক হতে গেলে আপনাকে তন্ত্রমতে পুজো করতে হবে। প্রপার মন্ত্র, তন্ত্র আর নৈবেদ্য না দিলে ভগবান খুশি হতেন না। আর সেই সঙ্গে লাগত বিপুল দক্ষিণা।” তাঁর দাবি, গত চার বছরে তৃণমূল তার চরিত্র হারিয়েছে। যে দলটা মানুষের ছিল, তা এখন ক্যামাক স্ট্রিটের কর্পোরেট অফিসে বন্দি হয়ে গিয়েছে।
ক্যামাক স্ট্রিটের ‘অভেদ্য দুর্গ’ ও নিচুতলার ক্ষোভ
কোহিনুর আরও বলেন, “আগে তৃণমূল ভবনে সবার অবাধ যাতায়াত ছিল। এখন সেখানে শুধু বক্সিদা (সুব্রত বক্সি) বসে থাকেন। আর সাধারণ কর্মীরা ক্যামাক স্ট্রিটে সিঁড়ির তলায় দিনের পর দিন বসে থাকে। অভিষেক ৩টেয় ঢোকেন আর ৬টায় বেরিয়ে যান, ওই সময় ওখানে মাছি গলতে পারে না।” তাঁর অভিযোগ, নিচুতলার বুথ বা ব্লক স্তরের নেতাদের কোনও পাত্তাই দেওয়া হত না এই নতুন ‘কর্পোরেট’ জমানায়।
আরজি কর ও মমতা সরকারকে ফেলার ছক?
সবচেয়ে বড় বোমাটি কোহিনুর ফাটিয়েছেন আরজি কর আন্দোলন নিয়ে। তাঁর দাবি, যখন রাজ্যজুড়ে আন্দোলন চলছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে অস্থির করে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন খোদ অভিষেকই। কসবা ল কলেজের ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁকে অভিষেকের অফিস থেকে পোস্ট ডিলিট করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানান। কোহিনুরের সাফ কথা, “এই তৈরি করা তৃণমূলকে শেষ করেছে প্যারাসুট থেকে নামা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”
পদ বিক্রির ‘ফিল্টারেশন প্রসেস’
তোলাবাজি নিয়ে মুখ খুলে তিনি বলেন, শুধু জলের লাইনের ১০ হাজার টাকা নয়, এখন জেলা বা ব্লকের সভাপতি হতে গেলে ১০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ‘দক্ষিণা’ দিতে হয়। এই অনৈতিক ‘ফিল্টারেশন প্রসেস’ তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতাকে সাধারণ মানুষের কাছে শূন্য করে দিয়েছে।





