টুইটারেও কি পালাবদল? মমতা-অভিষেককে আনফলো করে মোদি-শাহের শরণে কলকাতা পুলিশ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আনফলো’ করল লালবাজার
Truth of Bengal: লালবাজারের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে বড়সড় রদবদল চোখে পড়ল। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের তালিকায় আমূল পরিবর্তন এনেছে কলকাতা পুলিশ। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আনফলো’ করল লালবাজার। পরিবর্তে পুলিশের এই সরকারি অ্যাকাউন্ট এখন অনুসরণ করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।
গত সোমবার ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় ২০৭টি আসনে জিতে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শনিবার ব্রিগেডে ঘটা করে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা পুলিশের এক্স হ্যান্ডলে আমন্ত্রিতদের তালিকা বদলে গেল। বর্তমানে লালবাজার মোট ৪২টি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করছে, যার মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তাঁদের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রোফাইলটিকেও ফলো করতে শুরু করেছে তারা।
অন্য দিকে, ৯ মে দুপুর পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক ও এক্স হ্যান্ডলে তাঁর পরিচয় এখনও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। তবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর নিরাপত্তা ও প্রতিপত্তি যে কমেছে, তার প্রমাণ মিলেছে গত মঙ্গলবার থেকেই। ফলপ্রকাশের পরের দিনই মমতার বাড়ির গলির মুখ থেকে সিজারস ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় পুলিশ। এর আগে ওই এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ ছিল। এমনকি প্রতিবেশীদেরও যাতায়াতের সময় আধার কার্ড সঙ্গে রাখতে হত। লালবাজার থেকে জানানো হয়েছে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রোটোকল মেনে যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য, কেবল সেটুকুই বহাল থাকবে।
একই ছবি ধরা পড়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরের সামনে থেকে পুলিশি প্রহরা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বাসভবন শান্তিনিকেতন থেকেও পুলিশের স্ক্যানার ও অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই রদবদলের আবহে কলকাতা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে আনফলো করার বিষয়টি নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সরাসরি সরকারি স্তরেও যে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলে গিয়েছে, পুলিশের এই পদক্ষেপ তাকেই মান্যতা দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






