মেগা ইভেন্টেও মসৃণ তিলোত্তমা! যানজটহীন শহরে স্বস্তির নিশ্বাস সাধারণের
ব্রিগেডে বিশাল জমায়েত ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সত্ত্বেও শনিবার শহরজুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিল মোটের ওপর স্বাভাবিক।
Truth of Bengal: ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে কলকাতার ব্রিগেড প্যারাড গ্রাউন্ডে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল টানটান উত্তেজনা ও ভিড়। তবে এই মেগা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সে দিকে কড়া নজর ছিল কলকাতা পুলিশের। ফলে ব্রিগেডে বিশাল জমায়েত ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সত্ত্বেও শনিবার শহরজুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিল মোটের ওপর স্বাভাবিক।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। পুলিশের আগাম বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এদিন শহরে মালবাহী লরি বা ট্রাকের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কনভয় ও নিরাপত্তার খাতিরে এসপ্ল্যানেড র্যাম্প, কেপি রোড, হসপিটাল রোড, লাভার্স লেন, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ এবং কুইনস্ওয়েতে সাধারণ গাড়ি চলাচলে রাশ টানা হয়। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার সংযোগকারী যাত্রীদের কিছুটা ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হলেও, সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
শনিবার সকাল থেকেই বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও উৎসুক মানুষের গন্তব্য ছিল ব্রিগেডমুখী। মা উড়ালপুল বা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে গাড়ির চাপ থাকলেও, পুলিশি তৎপরতায় যান চলাচল সচল রাখা হয়। ইএম বাইপাসে সকালের দিকে গাড়ির গতি কিছুটা মন্থর থাকলেও ট্রাফিক কোথাও স্থবির হয়ে পড়েনি। পার্ক স্ট্রিট থেকে ফোর্ট উইলিয়াম কিংবা আউটরাম রোড সংলগ্ন এলাকায় বহু মানুষকে পায়ে হেঁটে ব্রিগেডের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
সাধারণত ব্রিগেডে বড় কোনও রাজনৈতিক সমাবেশ থাকলে কলকাতা শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এর আগেও নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সভায় ভোগান্তির চিত্র দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সেই চেনা ‘ট্রাফিক জ্যাম’-এর ছবি উধাও ছিল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কোনও রাজনৈতিক জনসভা না হওয়ায় এবং আগে থেকে পরিকল্পনা নিখুঁত থাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়েছে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠানে এলেও পুলিশের আগাম সতর্কবার্তার ফলে তাঁরা নিজেদের যাত্রা পথ আগেভাগেই ঠিক করে নিয়েছিলেন।






