কলকাতা

“তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি, কিন্তু…!”, চন্দ্রনাথের খু*ন নিয়ে বিস্ফোরক শমীক

তিনি শাসকদলকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, বিজেপি বর্তমানে সংযম দেখাচ্ছে মানেই তারা দুর্বল নয়

Truth of Bengal: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যার ঘটনায় এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই ঘটনাকে নিছক কোনো অপরাধ নয়, বরং সুপরিকল্পিত এবং প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চন্দ্রনাথের দেহ দেখতে যান শমীক ভট্টাচার্য। সেখান থেকেই তিনি শাসকদলকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, বিজেপি বর্তমানে সংযম দেখাচ্ছে মানেই তারা দুর্বল নয়। সিংহের স্থবিরতাকে যেন কেউ তার অসহায়তা মনে করে পদাঘাত করার ভুল না করে।

ময়নাতদন্তের আগে হাসপাতালে দাঁড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, চন্দ্রনাথ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একজন মানুষ হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হল। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে এই ঘটনা ঘটিয়ে কি বিজেপিকে কোনো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন সন্দেহও প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজ্য সভাপতির মতে, এই ধরনের বড় মাপের অপরাধ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা দুষ্কৃতীদের মদত ছাড়া অসম্ভব। মঙ্গলগ্রহ থেকে এসে কেউ এই কাণ্ড ঘটায়নি বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

ঘটনার রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানান, শুভেন্দু অধিকারী যখন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, তখন তিনি জানতেন না যে তাঁর ছায়াসঙ্গী আর বেঁচে নেই। শুভেন্দু ভেবেছিলেন প্রচুর রক্তপাত হওয়া চন্দ্রনাথকে দ্রুত অন্য কোথাও চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাবেন। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে শমীককেই সেই দুঃসংবাদটি শুভেন্দুর কাছে পৌঁছে দিতে হয়েছিল। বিজেপির দাবি, গত ১৫ বছর ধরে অপরাধীদের মনে কোনো ভয় নেই বলেই বাংলা আজ দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

বারাসত ও মধ্যমগ্রাম এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শমীক ভট্টাচার্য বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই অঞ্চলটি অনুপ্রবেশকারী এবং সমাজবিরোধীদের করিডোর হয়ে উঠেছে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারীদের জেরা করে জানা গিয়েছে যে, তারা এই এলাকা থেকেই জাল আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের মতো নথি সংগ্রহ করেছে। পুলিশকে দলদাসের মতো আচরণ না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বিজেপি তৃণমূলের ভাষায় উত্তর দিতে জানে, কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির খাতিরেই তারা আপাতত শান্ত রয়েছে।

Related Articles