কলকাতায় ঐতিহাসিক যোগ দিবস: রেড রোডের মেগা মঞ্চে একাসনে প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী
এই মেগা কার্নিভালে অংশ নিতে রবিবার সকাল ঠিক সাড়ে ৬টা নাগাদ রেড রোডে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
Truth of Bengal: ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে এক নজিরবিহীন ও রাজকীয় ‘মেগা যোগ কার্নিভাল’-এর আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কলকাতায় যোগ দিবস উদযাপনের মূল কর্মসূচিতে অংশ নিলেন তিনি। রবিবারের এই বর্ণাঢ্য যোগ মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর এন রবি সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের একঝাঁক মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এদিন রেড রোডের সুসজ্জিত মঞ্চ থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে যোগব্যায়াম এবং সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অত্যন্ত মূল্যবান বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্য শেষে তিনি সেখানে উপস্থিত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার উৎসাহী সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই আসনে বসে দীর্ঘক্ষণ যোগাভ্যাস করেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে পা মিলিয়ে প্রাণায়াম ও আসন করেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালও।
রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর, নবগঠিত বিজেপি সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে সরকারিভাবে এত বড় মাপের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। এই মেগা কার্নিভালে অংশ নিতে রবিবার সকাল ঠিক সাড়ে ৬টা নাগাদ রেড রোডে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে বাংলার নিজস্ব লোকসংস্কৃতি ছৌ নাচ এবং ঐতিহ্যবাহী ঢাকের তালে অত্যন্ত রাজকীয়ভাবে স্বাগত জানানো হয় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। রেড রোডের জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের দিনে ২১ জুন বিশ্বজুড়ে সবথেকে বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। কলকাতার মানুষ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্ততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। যোগ মানুষকে জাত-পাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে একে অপরের সঙ্গে জুড়ে দেয়।” শ্রীকৃষ্ণের বাণীবদ্ধ গীতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “যোগ আমাদের দৈনন্দিন জীবনশৈলীতে নিখুঁত ভারসাম্য আনে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে ৭০ বছর বয়সেও ৫০ বছরের এনার্জি পাওয়া যায় এবং ৪০ বছরেও শরীরে ধরে রাখা যায় ২০ বছরের তারুণ্য ও ফিটনেস।” এর পাশাপাশি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং বিষণ্ণতা কাটাতে যোগের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আজ বিশ্বের ১২০টি দেশের ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ভারতের এই ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগে শামিল হয়েছেন।
অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই গৌরবময় মঞ্চ থেকে বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “এতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সরকারিভাবে কোনও যোগ দিবস পালন করা হতো না, যার আসল কারণ আমাদের সবারই অজানা।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যোগব্যায়াম কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অত্যন্ত প্রাচীন সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলার সেই প্রায় ভুলে যাওয়া ঐতিহ্য ও যোগ সংস্কৃতিকে আবার সসম্মানে রাজ্যের বুকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে শতকোটি প্রণাম ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” বিশ্বের দরবারে প্রাচীন ভারতীয় যোগ সাধনাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নতি ও রোগমুক্ত সমাজ গঠনে যোগের ভূমিকা যে অপরিসীম, তা নিজের বক্তব্যে আরও একবার দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।





