বায়ুসেনার চাকরি ছেড়ে শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী, প্রাণ কাড়ল ঘাতক বুলেট, কে এই চন্দ্রনাথ রথ?
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হলে বড় দায়িত্বে থাকতেন চন্দ্রনাথ! দোহাড়িয়ার অন্ধকারেই কি শেষ হল সব পরিকল্পনা?
Truth of Bengal: শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হিসেবেই তাঁর পরিচিতি ছিল উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে। কিন্তু তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল অন্যরকম। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বাইক-আরোহী ঘাতকদের বুলেট যখন তাঁর বুক ঝাঁঝরা করে দিল, তখন আসলে স্তব্ধ হয়ে গেল বায়ুসেনার এক প্রাক্তন সেনানি তথা শুভেন্দুর একনিষ্ঠ অনুগামীর লড়াই। শুভেন্দু অধিকারীর মতোই চন্দ্রনাথ রথও ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র। ১৯৮৪ সালের ১১ অগস্ট চণ্ডীপুরে তাঁর জন্ম।
সন্ন্যাসী হওয়ার ইচ্ছা থেকে বায়ুসেনার জীবন
রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র হিসেবে চন্দ্রনাথের জীবন গড়ে উঠেছিল আধ্যাত্মিক আবহে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁর মনে সুপ্ত ইচ্ছা ছিল সন্ন্যাসী হওয়ার। কিন্তু জীবনের পরিহাসে তিনি দেশের সেবায় যোগ দেন ভারতীয় বায়ুসেনায়। টানা ১৮ বছর বায়ুসেনার কঠোর অনুশাসনে দেশরক্ষা করার পর তিনি স্বেচ্ছাবসর নেন। এরপর অল্প সময়ের জন্য কর্পোরেট সংস্থা ‘ফিউচার গ্রুপে’ কাজ করলেও, মেদিনীপুরের মাটির টান আর রাজনীতির আকর্ষণ তাঁকে থিতু হতে দেয়নি।
শুভেন্দুর সঙ্গে তিন দশকের পথচলা
চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে অধিকারী পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নয়ের দশকের শেষভাগে যখন শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে যোগ দেন, তখন থেকেই চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ। চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ এক সময় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন এবং শুভেন্দুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনিও এখন বিজেপিতে। ২০১৯ সালে শুভেন্দু যখন রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী, তখন থেকেই চন্দ্রনাথকে তাঁর দফতরে নিয়ে আসেন। এরপর ২০২০ সালে মেদিনীপুরের মেজোর হাত ধরে শুভেন্দু যখন গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন, চন্দ্রনাথও ছিলেন তাঁর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর প্রতিটি লড়াইয়ে নেপথ্যে থেকে রণকৌশল সাজাতেন এই প্রাক্তন সেনানি।
শেষ হল এক অসমাপ্ত অধ্যায়
রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা ছিল, ২০২৬-এর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী যদি পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসেন, তবে তাঁর প্রধান সচিব বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদে দেখা যাবে চন্দ্রনাথ রথকেই। প্রশাসনিক দক্ষতা আর রাজনৈতিক বিচক্ষণতার এক বিরল মিশ্রণ ছিলেন তিনি। কিন্তু বুধবার রাতের সেই কালান্তক বুলেট সব জল্পনা আর পরিকল্পনায় ইতি টেনে দিল। শুভেন্দুর ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথের এই আকস্মিক মৃত্যু মেদিনীপুর তো বটেই, রাজ্য বিজেপির অন্দরেও এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল।





