নিজের গড়েই পর্যুদস্ত অধীর, বহরমপুরের ‘রবিনহুড’ কি সত্যিই এখন বাদাম বেচবেন?
অধীরের রবিনহুড তকমা কি শেষ? বহরমপুরের 'বেতাজ বাদশা' আজ বড় অসহায়
Truth of Bengal: ২০২৪ লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় অধীর রঞ্জন চৌধুরী নিজেই রসিকতার ছলে বলেছিলেন, ‘‘হেরে গেলে বাদাম বেচতে হবে।’’ সেই রসিকতাই কি আজ চরম সত্যি হতে চলেছে? রাজনীতির ময়দানে আজ বড় অসহায় কংগ্রেসের একসময়ের দাপুটে নেতা। ২০২৪ লোকসভার হারের পর ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনেও নিজের খাসতালুক বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি ধরে রাখতে পারলেন না অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সাড়ে ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপির সুব্রত মৈত্রর কাছে পরাজয় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারের কফিনে যেন শেষ পেরেক।
একদা মুর্শিদাবাদের ‘বেতাজ বাদশা’ বা ‘রবিনহুড’, যাঁর ইশারায় চলত গোটা জেলা, যিনি পাঁচবারের সাংসদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা ছিলেন, আজ তিনি রাজনৈতিকভাবে কার্যত নিঃস্ব। একসময় বহরমপুর আর অধীর চৌধুরী ছিলেন সমার্থক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দেখা গেল অন্য ছবি। স্থানীয় স্তরে সংগঠন তলানিতে। বহরমপুর শহরের সব বুথে এজেন্ট দেওয়ার মতো ক্ষমতাও অবশিষ্ট ছিল না তাঁর। এই সাংগঠনিক রুগ্নতাই তাঁর হারের মূল কারণ। দীর্ঘদিন দিল্লিতে কাটানোর ফলে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা এই নির্বাচনে প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এরপর অধীর চৌধুরী কী করবেন? কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে থেকে রাজনীতির ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল? নাকি তিনি দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলে বিজেপির দিকে পা বাড়াবেন? কিন্তু মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় আজীবন সংখ্যালঘু রাজনীতি করা অধীর চৌধুরীকে কি গেরুয়া শিবির গ্রহণ করবে? সবমিলিয়ে, রাজনীতির দাবাখেলার একদা দাপুটে খেলোয়াড় আজ নিজেই ‘চেকমেট’।
৭০ বছর বয়সে পৌঁছে নতুন করে লড়াই শুরু করা সম্ভব কি না, নাকি ‘বাদাম বেচা’র সেই পুরনো ভবিষ্যদ্বাণীই অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হতে চলেছে, সেই উত্তর খুঁজছে এখন বাংলার রাজনৈতিক মহল। একসময়ের তুখোড় এই কংগ্রেস নেতার রাজনৈতিক জীবনের এই ট্র্যাজিক সমাপ্তি এক নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে।





