কলকাতা

পালাবদলের আঁচ এবার নবান্নে! প্রশাসনিক ভবনের করিডোরে করিডোরে উঠল ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি

এদিন সরকারি কর্মীদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হল ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি।

Truth of Bengal: দেড় দশকের রেকর্ড ভেঙে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ল রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্নে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নবান্নের অন্দরে চেনা পরিবেশ বদলে গিয়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। যে ভবনের অলিন্দে এতদিন তৃণমূল সরকারের কড়া অনুশাসন ছিল, সেখানেই এদিন সরকারি কর্মীদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হল ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি।

সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই দেখা গিয়েছে বিজেপি ২০০-র বেশি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার নবান্নের বিভিন্ন তলায় সরকারি কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরুষ থেকে মহিলা— সব স্তরের কর্মীদেরই এদিন মেতে উঠতে দেখা যায় গেরুয়া আবির খেলায়। একে অপরকে আবির মাখিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নবান্নের ভেতর উড়ল গেরুয়া পতাকাও।

উচ্ছ্বসিত কর্মীদের একাংশের দাবি, গত দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁরা এক প্রকার ভয়ের পরিবেশে কাজ করছিলেন। প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে মন খুলে কথা বলা বা নিজেদের দাবি জানানোর জায়গা ছিল না। পালাবদলের ফলে সেই ‘ভয়ের শাসন’ থেকে মুক্তি মিলল বলে মনে করছেন তাঁরা। কর্মীদের মুহুর্মুহু হাততালি এবং স্লোগানে এদিন কার্যত উৎসবের মেজাজ তৈরি হয় নবান্নে।

তবে এই উৎসবের মাঝেও উঠে এসেছে বঞ্চনার এক দীর্ঘ ইতিহাস। নবান্নের কর্মীদের কথায় বারবার ফিরে এসেছে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র প্রসঙ্গ। তাঁদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে তাঁরা বারবার ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন করেও সুরাহা পাননি। তাই নতুন সরকারের কাছে তাঁদের অনেক প্রত্যাশা। নবান্নের কর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক স্তরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, নতুন বিজেপি সরকার তার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নায্য পাওনা মিটিয়ে দেবে। সব মিলিয়ে, শপথ গ্রহণের আগেই নবান্নের চালচিত্র এক অন্য রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Articles