রাজ্যের খবর

বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের টার্গেট মিতালি, আহত সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে অভিষেক

অভিষেকের সভায় যাওয়ার পথে ‘টার্গেট’ সাংসদ! ভাঙচুর গাড়ি, হাসপাতালে ভর্তি মিতালি বাগ

Truth of Bengal: ভোটের মুখে উত্তপ্ত হুগলি! এবার বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুললেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। সোমবার দুপুরে গোঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সাংসদ জখম হয়েছেন এবং বর্তমানে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এই খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংসদকে দেখে আসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সমাজমাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করে মিতালি বাগ কাঁদো কাঁদো স্বরে সেই হামলার ভয়ংকর বিবরণ দেন। তাঁর অভিযোগ, গোঘাটে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের কার্যালয়ের সামনে লাঠি, বন্দুক ও রড নিয়ে প্রায় ৫০ জন দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির উপর হামলা চালায়। তাঁর দাবি, “প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।” গাড়ির সর্বত্র কাচের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে এবং সাংসদ দাবি করেন যে, তাঁর শরীরেও কাচ ফুটেছে। হামলার পরেই মিতালি বাগের অভিযোগ, “দেখুন কী ভাবে বিজেপির দুষ্কৃতীরা গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। মা-বোনেদের অনুরোধ আপনারা একজোট হয়ে ব্যালটে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন যে, মা-মাটি-মানুষের দল পিছোতে জানে না।”

হামলার ঘটনার পরেই সাংসদ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “নির্বাচন কমিশন, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ, কী ভাবে এক জন মহিলার উপর নির্যাতন করা হল?” মিতালি বাগের মতে, কমিশন আরামবাগে এসে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিল বলেই এই ঘটনা। “কমিশন, তুমি আরামবাগে এসে বলে গিয়েছ তৃণমূলের সমস্ত নেতা-কর্মীকে ধরে ধরে গ্রেফতার করতে হবে। নির্বাচন কমিশন, এর দায় তোমাকে নিতে হবে,” সাফ জানান তৃণমূল সাংসদ।

যদিও হামলার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ পাল্টা দাবি করেন, তাঁদের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চলার সময় তৃণমূল নেতা সঞ্জয় খানের নেতৃত্বে তাঁদের কর্মীদের ওপর লাঠি, ইট ও বন্দুক নিয়ে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় তাঁদের ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং মোট ৫০ জন আহত হয়েছেন। এমনকি তাঁদের প্রার্থীর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিমান ঘোষের দাবি, “ঘটনাটি চাপা দেওয়ার জন্য মিতালি বাগ নাটক করছেন।” তবে সোমবারের এই ঘটনায় হুগলির রাজনৈতিক পরিবেশ যে আরও উত্তপ্ত হল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Related Articles