রাজ্যের খবর

Exclusive: প্রথম দফা নির্বাচনে ‘গেম চেঞ্জার’ মহিলারাই, মানছেন উভয়পক্ষ

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না কি নাগরিকত্ব আতঙ্ক, প্রথম দফায় বাজিমাত কার?

জয় চক্রবর্তী: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্ঘন্ট অনুসারে গত ২৩ তারিখ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। মানুষের ভোটদানের স্বতঃস্ফূর্ততা নজিরবিহীন ছিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে প্রথম দফাতে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বালাবদল ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাম শাসনের অবসান ও তৃণমূল সরকারের পত্তন হয়। সেই সময়ও ৮৪ শতাংশের ভোট দানের ইতিহাস রয়েছে। ‌ কিন্তু চলতি বছরের বিধানসভার প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশের এর ওপর ভোটদান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমান শাসক দল তৃণমূল নির্বাচনের প্রথম দফায় প্রচুর ভোটদানের পর আশাবাদী। তেমনই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সিপিআইএম ও কংগ্রেস অবশ্য সরকার গঠনের আশা না করলেও, তাদের পক্ষের ভোটের হাড় বাড়বে বলেই আশা করছেন।

কিন্তু বাস্তবে কী হবে? তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৪ মে পর্যন্ত। এরমধ্যে ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফা নির্বাচন রয়েছে। সেখানে ১৪২টি কেন্দ্রে নির্বাচন হবে। “অংক সব সময় দেখে এবং বুঝে নেওয়া উচিত। বিগত বছরগুলির বিধানসভা নির্বাচনের থেকে এবারের ভোটে ভোট দানের হার বেশি। শতাংশের বিচারে সাংঘাতিক বেড়েছে সেটা বলা যাবে না। চার শতাংশের মতো বেড়েছে। তবে ভোট দান বেড়েছে। এখানে মনে রাখতে হবে, গতবার গুলির নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের সংখ্যা বেড়েছে” আরো খবরকে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র।

কিন্তু ভোট দানের হার বাড়ল কেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন ভট্টাচার্যের মতে,”কিছুটা আতঙ্কে মানুষ বুথমুখী হয়েছেন। নির্বাচনের আগে এস আই আর প্রক্রিয়া হয়েছে। যাদের নাম রয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়, তাদের কাছে অদ্ভুতভাবে এক বার্তা গিয়েছে। এবারে ভোট না দিলে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণে ভোটের হার অনেকটাই বেশি। এমনকি দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন্ন রাজ্য থেকে এখানে এসে ভোট দিয়েছেন। মহিলাদের ভোট সংখ্যাও বেশি।” যদিও এমন বার্তা নির্বাচন কমিশন থেকে মোটেই দেওয়া হয়নি। দুটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, প্রথম দফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে। প্রথমটি হল মহিলাদের ভোটদানের অংক অনেকটাই বেশি। আর দ্বিতীয়টা সংখ্যালঘু জেলাগুলোতে ভোটদানের হার বেশি। সে ক্ষেত্রে কি তৃণমূল কংগ্রেসর ক্ষমতা দখলে ‘অ্যাডভান্টেজ’? কারণ মহিলা এবং সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক দুটোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাড়াড়ে আছে।

আবার অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি ১০০টির ওপরে আসন প্রথম দফার নির্বাচনের পরেই পাবে এমন আশা প্রকাশ করছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। “দেখুন মাঠে দুটো দল খেলতে নামে জেতার জন্য। সুতরাং নির্বাচনী যুদ্ধে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল তাদের মত করে বক্তব্য রেখেছে। আবার এটাও তো ঠিক, সিপিআইএম, কংগ্রেস বা আইএসএফ নিজেদের মতো করে লড়াই করেছে। বিজেপি অবশ্য বেশি উত্তেজিত। কারণ বেশি ভোট পরা মানেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী।”

তিনি আরও বলেন,”তবে এটা একেবারেই বোঝা যাচ্ছেনা যে কার পক্ষে ভোট গেছে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যেমন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তেমনি হিন্দুদের ভোটও যথেষ্ট পরিমাণে পড়েছে।” ২০১১ সালের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে চলা রাজ্য সরকার মহিলাদের জন্য বেশ কিছু সামাজিক প্রকল্প নিয়ে এসেছে। যার মধ্যে বাজিমাত করা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। চলতি বাজেটে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। আবার ভারতীয় জনতা পার্টি বলছে তারা সরকারে এলে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। সুতরাং মহিলারা গেম চেঞ্জার হতেই পারেন এই বিধানসভা নির্বাচনে।

১৯৭৭ সালে বঙ্গে বাম শাসনের পত্তন হয়। সেই বছর মহিলা ভোটের হার ছিল ৫১.৮৬ শতাংশ। এবারের নির্বাচনের প্রথম দফার পরে দেখা যাচ্ছে মহিলাদের ভোটের হার ৯২.৬৯ শতাংশ। লোকসভা বা বিধানসভা তেই হোক না কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেসকে দুহাত তুলে সমর্থন জুগিয়েছেন মহিলারা। সেই অর্থে মহিলাদের ভোটদানের হার ঘাসফুল শিবিরে যথেষ্ট আসা জাগিয়েছে। ২০১১ সালে মহিলাদের ভোটদানের হার ছিল ৮৪ শতাংশের বেশি। ২০১৬ সালে সেটা নেমে আসে ৮৩ শতাংশের মতো। ২০২১ সালে সেটা হয়েছিল ৮১% এর বেশি। এবারে শুধু প্রথম দফাতেই ৯২%-এর বেশি। হবে তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবার ক্ষমতা দখলের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। সংখ্যালঘু ভোটের পাশাপাশি মহিলা ভোটব্যাঙ্ক অটুট রয়েছে, এমনটাই মনে করছে ঘাসফুল শিবির।

Related Articles