সোনা পাপ্পু মামলায় ফের সক্রিয় ইডি! রবিবাসরীয় সকালে আনন্দপুর ও আলিপুরের ব্যবসায়ীদের বাড়িতে মেগা তল্লাশি
বালিগঞ্জে গোলমালের ঘটনায় সোনা পাপ্পু এখনও অধরা থাকলেও, তাঁর বাড়ি থেকে পিস্তল ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছিল।
Truth Of Bengal: প্রথম দফার নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর এবং আগামী ২৯ এপ্রিলের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রবিবার সকালে খাস কলকাতার আনন্দপুর ও আলিপুরসহ মোট তিনটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর, কুখ্যাত ‘সোনা পাপ্পু’ মামলার তদন্তে নেমেই এই তৎপরতা। এর আগে সোনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তাঁকে জেরা করেই উঠে এসেছে আনন্দপুর ও আলিপুরের এই ব্যবসায়ীদের নাম। বালিগঞ্জে গোলমালের ঘটনায় সোনা পাপ্পু এখনও অধরা থাকলেও, তাঁর বাড়ি থেকে পিস্তল ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। সেই সূত্রেই জয়ের গ্রেফতারি এবং এবার আরও একাধিক ব্যবসায়ীর ডেরায় হানা দিল ইডি।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ, ধৃত জয়ের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে। ইতিপূর্বেই ওই পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং জয়ের মোবাইল ফোন থেকে একাধিক প্রভাবশালী নাম ইডির নজরে এসেছে। বিনিয়োগের আড়ালে বড় মাপের কোনো আর্থিক তছরুপ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই রবিবার সাতসকালে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আধিকারিকরা। নির্দিষ্ট কিছু ডিজিটাল নথি ও ব্যাঙ্কিং লেনদেনের তথ্য উদ্ধার করাই এখন ইডির মূল লক্ষ্য।
ভোটের আবহে এই কেন্দ্রীয় তৎপরতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। আজই উত্তর কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রোড শো করার কথা। তার আগেই এই ইডি অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তোপ দেগেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, পদ্ম শিবিরের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করছে এবং দুর্নীতির তদন্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। ২৯ এপ্রিল ১৪২টি কেন্দ্রে ভাগ্য নির্ধারণের আগে কলকাতার এই ইডি অভিযান নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।





