“পারমিশন নিয়েও সভা করতে দিল না!”, চক্রবেড়িয়ায় বিজেপি-র মাইকিংয়ে রণংদেহী মমতা
ভবানীপুরে মমতার সভায় ‘বিজেপি-র মাইক’! অপমানে ভাষণ থামিয়ে মঞ্চ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী
Truth of Bengal: ভবানীপুরের নিজের কেন্দ্রে প্রচার করতে গিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়লেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চক্রবেড়িয়া রোডের জনসভায় ভাষণ চলাকালীন পাশেই বিজেপি-র পাল্টা ‘মাইকিং’ শুরু হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিনি। চরম বিশৃঙ্খলার জেরে মাত্র কয়েক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেই মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনাকে ‘অসভ্যতা’ ও ‘চূড়ান্ত অপমান’ বলে দেগে দিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এদিন সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, ঢিলছোড়া দূরত্বে বিজেপি-র প্রচার চলছে এবং তার আওয়াজে মমতার ভাষণ শুনতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। মেজাজ হারিয়ে মঞ্চ থেকেই মমতা বলেন, “কেন করবে এটা? ইলেকশনের কতগুলো রুলস আছে। আমি সব অফিশিয়াল পারমিশন নিয়েছি। ওরা যদি এটা আমার কেন্দ্রে করতে পারে… তা হলে বুঝতে পারছেন, পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে।” পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই কাউকে ফোন করে বিষয়টি জানান।
বিরোধীদের এই ‘অ্যাটিটিউড’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা স্পষ্ট জানান, এভাবে গায়ের জোরে পশ্চিমবঙ্গ দখল করা সম্ভব নয়। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি এক মাস এখানে ছিলাম না, রাজ্যের অন্য প্রান্তে ২০০ আসনের জন্য ঘুরছিলাম। আর এখানে আমাকে মিটিং পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না। এটা খুব অপমানজনক, খুব হিউমিলেশন।”
বক্তব্য দীর্ঘ না করে তিনি ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ঘোষণা করেন যে, এর প্রতিবাদে তিনি পরের দিন অর্থাৎ রবিবার ওই এলাকায় একটি বিশাল র্যালি করবেন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর শেষ বার্তা ছিল, “আমাকে মিটিং করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে আপনাদের ভোটটা দিতে হবে। আমার সিম্বল নম্বর ২। আমি আপনাদের নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরে তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে পৌঁছেছে।





