দেশ

বিশ্বজয় করল দেশি চিজ, ব্রাজিলে ৪টি পদক জিতল ভারত, প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

এই পদক জয়ের তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মুম্বইয়ের এলিফথেরিয়া চিজের গুলমার্গ।

Truth of Bengal: বিশ্বের দরবারে ভারতের দুগ্ধশিল্পের মুকুটে যুক্ত হল এক নতুন পালক। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ মুন্দিয়াল দো কুইজো দো ব্রাজিল ২০২৬ প্রতিযোগিতায় অভাবনীয় সাফল্য পেলেন ভারতীয় পনির বা চিজ নির্মাতারা। গত ১৬ থেকে ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৩০টিরও বেশি দেশের কয়েকশ প্রতিযোগীর মধ্যে লড়াই করে ভারত চারটি পদক ছিনিয়ে নিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এমন জয়জয়কারকে কুর্নিশ জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এই পদক জয়ের তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মুম্বইয়ের এলিফথেরিয়া চিজের গুলমার্গ। মৌসম নারাংয়ের হাতে তৈরি এই ব্রি-স্টাইল চিজটি প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ সম্মান সুপার গোল্ড জিতেছে। গরুর দুধ থেকে তৈরি এই নরম এবং মাখনের মতো মসৃণ চিজটির স্বাদ ও গুণমান বিচারকদের মুগ্ধ করেছে। একজন নতুন চিজ প্রস্তুতকারক হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সাফল্যকে বিশেষজ্ঞ মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। মুম্বইয়ের পাশাপাশি হিমালয়ের মাটি থেকেও এসেছে বড় সাফল্য। লাদাখের লেহ ভিত্তিক নর্ডিক ফার্মের ইয়াক চুরপি-সফট জিতেছে স্বর্ণপদক। থেনলে নুরবুর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই বিশেষ পনিরটি তৈরি হয়েছে পুষ্টিগুণে ভরপুর চমরি গাইয়ের দুধ দিয়ে। হিমালয়ের ঐতিহ্যবাহী শক্ত চুরপিকে এক নতুন এবং আধুনিক রূপ দিয়ে তৈরি এই সুস্বাদু খাবারটি স্বাদে ও গন্ধে পাহাড়ি মেজাজকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছে।

সোনার লড়াইয়ে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছে এলিফথেরিয়া ব্রুনোস্ট। নরওয়েজিয়ান ঘরানার অনুপ্রেরণায় তৈরি এই হুই চিজটি তৈরির কারুকার্য অবাক করার মতো। দুধের জলকে ধীরে ধীরে জ্বাল দিয়ে ক্যারামেলাইজ করার মাধ্যমে এর স্বাদ এবং গঠন অনেকটা বাটারস্কচের মতো মিষ্টি হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি এলিফথেরিয়া কালি মিরি জিতেছে রৌপ্য পদক। গোলমরিচের আবরণ যুক্ত এই পনিরটির ঝাঁঝালো এবং ঘন স্বাদ প্রতিযোগিতার আসরে বিচারকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে ভারতের হস্তশিল্পজাত দুগ্ধজাত পণ্যের কদর একলাফে অনেকটাই বেড়ে গেল। চিজ বা পনির বলতে এতদিন যে কেবল ইউরোপীয় দেশগুলোর একাধিপত্য ছিল, ভারতের এই চার পদক জয় সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দিল। বিশেষজ্ঞ এবং ভোজনরসিকদের মতে, মাটির টান আর আধুনিক প্রযুক্তির এই মিশ্রণ ভারতের দুগ্ধশিল্পকে আগামীর দিনে আরও বড় মাইলফলকের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।