দেশ

মদের দামে বড়সড় বদল আনতে চলেছে সরকার, জারি হল নতুন খসড়া

কর নির্ধারণে আরও স্বচ্ছ ও একরূপ পদ্ধতি আনার চেষ্টা করছে সরকার

Truth of Bengal: মদ্যপানের উপর কর কাঠামো বদলাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কর্ণাটক সরকার। নতুন খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মদের ওপর কর নির্ধারণ করা হবে তিনটি মূল ভিত্তিতে— অ্যালকোহলের মাত্রা, পণ্যের ধরন এবং বাজারে ঘোষিত দাম। এই প্রস্তাবটি কর্ণাটক এক্সাইজ (শুল্ক ও ফি) নিয়ম, ১৯৬৮-তে সংশোধনের অংশ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাত দিনের জন্য সাধারণ মানুষের মতামত ও আপত্তি নেওয়া হবে। নতুন ব্যবস্থায় ‘অ্যালকোহল-ইন-বেভারেজ’ (এআইবি) নামে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড চালু করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হুইস্কি, রাম, বিয়ার, ওয়াইন-সহ বিভিন্ন পানীয়তে প্রতি লিটারে অ্যালকোহলের পরিমাণ মেপে কর ধার্য করা হবে। ফলে কর নির্ধারণে আরও স্বচ্ছ ও একরূপ পদ্ধতি আনার চেষ্টা করছে সরকার।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ও আধাসামরিক বাহিনীর ক্যান্টিনে সরবরাহ করা ভারতীয় তৈরি মদে কর তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে— ৪২.৮ শতাংশ অ্যালকোহল মাত্রার ক্ষেত্রে প্রতি বাল্ক লিটারে ৫০ টাকা। তবে সাধারণ বাজারে একই ধরনের মদের ওপর কর অনেক বেশি— প্রতি লিটার বিশুদ্ধ অ্যালকোহলে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত। এতে প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক খাতের মধ্যে করের স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। বিয়ারের ক্ষেত্রেও আলাদা করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ শতাংশ পর্যন্ত অ্যালকোহলযুক্ত বিয়ারে প্রতি বাল্ক লিটারে ১২ টাকা কর, আর ৫ থেকে ৮ শতাংশ অ্যালকোহল থাকলে সেই হার বেড়ে হবে ২০ টাকা।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে দামের ভিত্তিতে করের স্তর নির্ধারণে। নতুন স্ল্যাব পদ্ধতিতে কম দামের মদের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার বিশুদ্ধ অ্যালকোহলে কর ৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে প্রিমিয়াম সেগমেন্টে (৫,০০১ টাকার বেশি দামের ক্ষেত্রে) তা বেড়ে ৩,৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। একইভাবে বিয়ারের ক্ষেত্রেও দাম অনুযায়ী অতিরিক্ত শুল্ক ৮০০ টাকা থেকে ২,৭০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা সরবরাহ, রফতানি এবং এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় বা কম করহার বজায় রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কর্ণাটকের এই নতুন প্রস্তাব স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে— মদের অ্যালকোহল শক্তি ও বাজারদাম, এই দুইয়ের ওপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে কর নির্ধারণ হবে। ফলে শক্তিশালী ও দামী মদের ওপর করের চাপ বাড়তে পারে, আর প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।

 

 

Related Articles