দেশ

ধর্ষণে অভিযুক্তের সাথে পুলিশের বার্থডে পার্টি! মাঝরাস্তায় ট্রাফিক আটকে কেক কাটিং, ভাইরাল ভিডিও

ভিডিওতে চিহ্নিত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে

Truth of Bengal: মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর পরতওয়াদা যৌন নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেল কাণ্ডে এবার এক বিস্ফোরক ভিডিও সামনে এল, যা ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত অয়ন আহমেদ ওরফে মোহাম্মদ আয়াজকে মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে পুলিশ অফিসারদের উপস্থিতিতেই নিজের জন্মদিন পালন করতে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা অভিযুক্তকে কেক খাইয়ে দিচ্ছেন এবং রাস্তার ওপর উৎসব পালন করতে ট্রাফিক আটকে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারের ঠিক কয়েক দিন আগেই এই ঘটনাটি ঘটেছিল। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন ‘ভিআইপি’ আপ্যায়ন প্রকাশ্যে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন অমরাবতীর পুলিশ কমিশনার। ভিডিওতে চিহ্নিত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, অয়ন তার শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়া ইমেজ ব্যবহার করে তরুণীদের ফাঁদে ফেলত। ইনস্টাগ্রামে তার ১৮ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার ছিল এবং ফোনের ব্যবসার পাশাপাশি পেইড প্রমোশনের মাধ্যমে সে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। নিজেকে ‘আধুনিক’ হিসেবে তুলে ধরে ২০১৯ সাল থেকে স্ন্যাপচ্যাট এবং ২০২২ সাল থেকে ইনস্টাগ্রাম রিলসের মাধ্যমে সে মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলত। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত অয়ন ক্যাজুয়ালি দাবি করেছে যে, প্রথম ব্রেকআপের পর সে ‘প্লেবয়’ হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও মনোবিদরা নন, বরং পুলিশ মনে করছে এটি কোনও মানসিক সমস্যা নয় বরং এক বিকৃত কিশোর মানসিকতা ও জীবনযাত্রার প্রতিফলন।

অভিযোগ উঠেছে, অয়ন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুম্বই ও পুনের মতো শহরে নিয়ে যেত। সেখানে মেয়েদের আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করত এবং তাদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করত বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৩৯টি ছবি এবং ১৮টি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে এই অভিযুক্ত। এই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে ৪৫ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে।

অমরাবতীর পরতওয়াদা শহরের বাসিন্দা এই অয়ন আহমেদ এক সময় এআইএমআইএম বা মিম দলের পদাধিকারী ছিল বলে জানা যায়। তবে এই কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে অভিযুক্তের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনমানসে প্রভাব তৈরি করা এই যুবকের আসল চেহারা এখন পুলিশের আতশকাঁচের তলায়। পুলিশি মদতে তার জন্মদিন পালনের বিষয়টি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার ফলে বিভাগীয় স্তরেও অস্বস্তিতে পড়েছে প্রশাসন।

Related Articles