দুয়ারে সরকারের পর এবার ‘দুয়ারে চিকিৎসা’, তৃণমূলের ইস্তেহারে বড়ো ঘোষণা মমতার
গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে সরাসরি স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একগুচ্ছ নতুন অঙ্গীকার নিয়ে ইস্তেহার প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্তেহারের নাম দিয়েছেন ‘প্রতিজ্ঞা’। ২০১১ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকার ফলে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই এবারের লড়াইয়ে নামছে শাসক দল। এবারের ইস্তেহারে সবথেকে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ পরিষেবা। গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে সরাসরি স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যদি তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় আসে, তবে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে নিয়মিতভাবে ‘মেডিক্যাল ক্যাম্প’ বা স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প চালু করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিল রাজ্য সরকার। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ায় সেই সময় ব্যাপক সাড়া মিলেছিল। ঠিক সেই আদলেই এবার মানুষের ঘরের কাছে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে চাইছে শাসক শিবির। মূলত ব্লক স্তরে এই শিবিরগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া হবে।
তৃণমূলের একটি অংশের মতে, এই পরিকল্পনার মূলে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার মডেল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে ‘সেবাশ্রয়’ নামে একটি স্বাস্থ্য শিবিরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। এমনকি কিছুদিন আগে নন্দীগ্রামেও একই ধরনের শিবিরের আয়োজন করা হয়। মনে করা হচ্ছে, সেই সফল মডেলটিকেই এবার সারা রাজ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি ব্লকে এই স্বাস্থ্য শিবির চালু হলে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো চিকিৎসার জন্য আর দূরে ছুটতে হবে না।
দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনকালের পর জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এই ‘প্রতিজ্ঞা’ ইস্তেহারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারি পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করে তোলা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসাই এখন তৃণমূলের প্রধান হাতিয়ার। নির্বাচনের আগে এই নতুন স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্প গ্রাম বাংলার ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।






